পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহতের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম প্রচারকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স এ তথ্য জানিয়েছে।সাইট’র তথ্য অনুসারে আইএস জানিয়েছে, একজন যোদ্ধা শিয়াসম্প্রদায়ের মসজিদের ভেতরের গেটে পৌঁছানোর পর মুসল্লিদের লক্ষ্য করে তার বিস্ফোরক ভরে রাখা ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটান। এতে অনেকে হতাহত হন।
ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণটি ঘটে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ নিকটবর্তী এলাকা ও প্রধান হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করে।
তিনি বলেন, আহতদের ইসলামাবাদ ও সংলগ্ন রাওয়ালপিন্ডি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।শুক্রবার জুমার নামাজের কারণে মসজিদে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় ছিল, তখনই এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হামলাকারীকে গেটে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই সে বিস্ফোরণ ঘটায়।৫২ বছর বয়সী মুসল্লি মুহাম্মদ কাজিম বলেন, নামাজ শুরু হওয়ার পরপরই ব্যাপক শক্তিশালী বিস্ফোরণ পুরো ভবনকে তছনছ করে দেয়। তিনি বলেন, নামাজের প্রথম রুকুর সময় আমরা গুলিরশব্দ শুনতে পাই। রুকুতে থাকা অবস্থাতে ইবিস্ফোরণটি ঘটে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই পাকিস্তানের রাজধানীতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ওই সময় পাঁচতারকা ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় ৬০ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় হোটেলটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসলামাবাদ মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। পাকিস্তান সরকারের ‘জাতীয়নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার’ প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।
গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শুক্রবারের ওই হামলার ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে মর্মাহত’। বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, “চীন এ হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং যে কোনে ধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে।”