মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো হওয়া মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালায় তবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারের গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এমনটি জানিয়েছেন। এসব হামলাকে ঘাঁটিগুলো যেখানে অবস্থিত সেই দেশগুলোতে আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পরদিন আরাগচি এসব মন্তব্য করেছেন। এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয়েই পারমাণবিক আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করে তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর পর ওমানেই প্রথম তেহরান ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
আরাগচিজা নিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা কবে হবে, তার তারিখ নির্ধারিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকেই আলোচনা হতে পারে। আরাগচি বলেছেন, “ওয়াশিংটন ও আমরা বিশ্বাস করি এটি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।”
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আশপাশে নৌ ও বিমান বহরসহ বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে হবে, এর পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও আশপাশের অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় ফের ইরানে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সন্দেহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক প্রকল্পগুলো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে নিবেদিত, পারমাণবিক জ্বালানি দিয়ে বোমা বানানোর কোনা ইচ্ছা তাদের নেই।
রয়টার্স লিখেছে, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ঘিরে পশ্চিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষই কূটনীতি পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেওয়া সত্ত্বেও আরাগচি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের বাইরে আলোচনা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন।
তিনি বলেছেন, “যে কোনো সংলাপের জন্য হুমকি ও চাপ থেকে বিরত থাকা দরকার। (তেহরান) শুধু তার পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করি না।”
জুনে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের বোমা হামলা অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে যোগ দেয়। তারপর থেকে তেহরান বলে আসছে, তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তৎপরতা বন্ধ করে রেখেছে।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কাতারে মার্কিন সামরিকঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। অপর দিকে কাতার, তেহরান ও ওয়াশিংটন, উভয়ের সঙ্গেই ভালোসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।
আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ক্ষেত্রেও পরিণতি আগেই মতোই হবে।
তিনি বলেন, “আমেরিকার মাটিতে হামলা চালানো সম্ভব না। কিন্তু আমরা এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যস্থলে পরিণত করতে পারি। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ করবোনা; বরং তাদের ওখানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যস্থল করবো। এই দুটির মধ্যে বড় ধরনের তফাৎ আছে।”
ইরান জানিয়েছে, তারা চায় তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি আর তারা যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসে তাহলে তাদের দেশ ইসরায়েলের হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়বে।