image
নোয়াম চমস্কির স্ত্রী ভ্যালেরিয়া চমস্কি ও এপস্টিন। ছবি: গার্ডিয়ান

এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্ষমা চাইলেন চমস্কির স্ত্রী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

কুখ্যাত যৌন অপরাধি জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতির ভাষাবিদ ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কির স্ত্রী ভ্যালেরিয়া চমস্কি। সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে স্বীকার করেছেন, তিনি ও তার স্বামী ধারাবাহিকভাবে যুক্ত ছিলেন কুখ্যাত আর্থিক পৃষ্ঠপোষক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে। যা তাদের কাছে ‘মারাত্মক ভুল’ ছিল। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

ভ্যালেরিয়া বলেন, তারা এপস্টিনের অতীতে ঘটে যাওয়া অপরাধসমূহের ‘সম্পূর্ণতা’ সম্পর্কে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার পটভূমি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখেননি। এপস্টিন নিজেকে বিজ্ঞান ও সমাজকল্যাণের শুভাকাঙ্ক্ষী দানশীল ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করায় তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে পরে তা প্রতারণামূলক প্রমাণিত হয়েছে।

নথি প্রকাশের পর দেখা গেছে, চমস্কি ও এপস্টিনের যোগাযোগ ২০০৮ সালের এপস্টিনের প্রথম দোষ স্বীকারের পরেও ছিল। ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের মানবপাচারের অভিযোগ ও গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটে। একবার চমস্কি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে নেগেটিভ মিডিয়া প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করা ভালো, মন্তব্যটি পরে সমালোচনার মুখে পড়ে।

ভ্যালেরিয়া বলেন, এই সম্পর্কের শুরুটা ২০১৫ সালে, যখন তাদের পরিচয় ঘটে। তারা বিভিন্ন সাক্ষাৎ, ডিনার ও একাডেমিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, প্যারিস ও নিউ মেক্সিকোতে এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেন। তবে প্রাইভেট সমুদ্রদ্বীপে কখনো যাননি। এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।

নোয়াম চমস্কির স্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এপস্টিন তাদের আর্থিকভাবে দুই ক্ষেত্রে সহায়তা করলেও, একটি লিঙ্গবিজ্ঞান কর্মে ও অন্যটি ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যার সমাধানে এই সম্পর্ক গভীর আর্থিক অংশীদারিত্বের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। ভ্যালেরিয়া বলেন, “এটি একটি মারাত্মক ভুল ছিল। সেই ভুলের জন্য আমি দু’জনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।”

চমস্কি নিজে ৯৭ বছর বয়সে গত কয়েক বছর ধরে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিজের পক্ষে সরাসরি মন্তব্য করতে অক্ষম বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সমালোচকরা বলেছেন, একজন প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীর এ ধরনের সম্পর্ক তার ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌনপাচার ও মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি