জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জোট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ায় ক্ষমতাসীনদের প্রতিশ্রুত করছাড় বাস্তবায়ন এবং চীনকে মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীর পেছনে খরচ বাড়ানোর পথ খুলল। গতকাল রোববারের নির্বাচনে রক্ষণশীল তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে একাই ৩১৬টি আসন জিতেছে। এটাই কোনো নির্বাচনে দলটির সেরা ফল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জোটের শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির (ইশিন নামে পরিচিত) কল্যাণে নিজেকে ব্রিটেনের ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার দ্বারা অনুপ্রাণিত বলা তাকাইচি এখন জাপানের পার্লামেন্টের শক্তিশালী নিম্নকক্ষের ৩৫২টি আসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছেন; যা তাকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘কর্তৃত্ব’ এনে দেবে, যার ফলে উচ্চকক্ষের বাধা টপকে আইনে পাস সহজ হবে। “এই নির্বাচনের সঙ্গে বড় বড় নীতি পরিবর্তনের প্রসঙ্গ জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতি বড় রদবদল, পাশাপাশি নিরাপত্তা নীতি জোরদারের প্রসঙ্গও আছে। এসব নীতি নিয়ে এতদিন ধরে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা গেছে। যদি আমরা জনসমর্থন পাই তাহলে সর্বশক্তি দিয়েই আমাদের এসব ইস্যুর সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। ভোটের ফল যখন একটু একটু করে আসতে শুরু করেছে তখন টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তাকাইচি। জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তাকাইচির দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
ফল ঘোষণার পর তাকাইচিকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, “তার রক্ষণশীল, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা পাসে শুভকামনা থাকলো। নির্বাচন করার মতো সাহসী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত তাকে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে”। আগামী মাসেই হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে তাকাইচির দেখা হওয়ার কথা।
গত বছরের শেষ দিকে তাকাইচি জাপানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এলডিপির প্রধান পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ৬৪ বছর বয়সী ‘লৌহমানবী’ শীতকালে আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন। তার সোজাসাপ্টা কথা, কঠোর পরিশ্রমী ভাবমূর্তি ভোটারদের আকৃষ্ট করলেও তাকাইচির কট্টর-জাতীয়তাবাদী ঝোঁক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি জোর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছে। তার কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতিও বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
তার ডাকে রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেই ভোট দিতে হয়েছে জাপানিদের; প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে রোববার দেশটির কিছু এলাকায় মারাত্মক যানজটও দেখা গেছে, কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্র আগেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয়বার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হল জাপানে; সাধারণত দেশটিতে তুলনামূলক সহনশীল আবহাওয়ার সময় ভোট হয়। পাহাড়ি নিগাতা প্রশাসনিক এলাকার উওনামা শহরের একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক ঠাণ্ডা ও ভারি তুষারপাতের মধ্যে তাকাইচির এলডিপিকে ভোট দিতে যান ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক কাজুশিগে চো। “মনে হচ্ছে তিনি দেশকে দিশা দিচ্ছেন, যেন পুরো দেশ একত্রিত হয়ে অগ্রসর হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে খাদ্যপণ্যে ৮% বিক্রয়কর বাতিলের যে প্রতিশ্রুতি তাকাইচি নির্বাচনের সময় দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বেশ চিন্তিত। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণভারে জর্জরিত জাপান এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ পাবে কই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।