image

ইসরায়েল আবার প্যালেস্টাইন পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

ফিলিস্তিনে ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরের দখল ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এ পদক্ষেপ দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও দখল করা আরও সহজ করবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি ও আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে - এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়নেট ও হারেৎজ জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কয়েক দশক পুরোনো এমন বিধিনিষেধ বাতিল করা, যা পশ্চিম তীরে ইহুদি ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনার সুযোগ সীমিত করত। এই পরিবর্তন বসতি সম্প্রসারণকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনি নেতারা।

এছাড়া, কিছু ধর্মীয় স্থানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা এলাকাগুলোতে পরিবেশগত ঝুঁকি, পানি সংক্রান্ত অপরাধ এবং প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা ক্ষতির মতো বিষয়ে ইসরায়েলের তদারকি ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক ও অবৈধ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি কার্যত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পথে আরেক ধাপ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করেছেন, তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দ্রুতগতির বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

পশ্চিম তীর এমন একটি অঞ্চল, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার আশা করে। বর্তমানে এর বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে, আর কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে দেওয়া এক অবাধ্যতামূলক মতামতে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি ভূখ-ে ইসরায়েলের দখল ও বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা দ্রুত শেষ করা উচিত। তবে ইসরায়েল এই মতামত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি