ভারতের পাঞ্জাবের তরন তারান জেলায় আজ সোমবার সকালে স্থানীয় একটি আইন কলেজের শ্রেণিকক্ষে এক সহপাঠীর গুলিতে আরেক সহপাঠী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ নারী সহপাঠী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।
পরে হামলাকারী সহপাঠী গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
সহপাঠীর গুলিতে নিহত ছাত্রীর নাম সন্দীপ কৌর। তিনি নৌশেরা পন্নুয়ান এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ছাত্রের নাম প্রিন্স রাজ। তিনি জালন্ধর জেলার মল্লিয়ান গ্রামের বাসিন্দা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রিন্স রাজ শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সন্দীপ কৌরের পাশ দিয়ে হেঁটে যান। এ সময় কৌর তাঁর উদ্দেশে কিছু একটা বলেন। কিন্তু রাজ এতে কোনো সাড়া দেননি।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কৌর শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এরপর রাজও তাঁকে অনুসরণ করেন। তখন আরেক সহপাঠী রাজকে থামানোর চেষ্টা করেন। এই নারী সহপাঠী নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, পরে উল্লিখিত তৃতীয় নারী সহপাঠী রাজ ও কৌরকে বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষের পেছনের দিকে নিয়ে যান। দুই নারী শিক্ষার্থী শেষের বেঞ্চে বসেন। রাজ তাঁদের সামনে বসেন।
একপর্যায়ে দেখা যায়, কৌর দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে কৌরের মাথায় গুলি করেন রাজ। এরপর তিন কদম এগিয়ে নিজের মাথায়ও গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষের সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। তৃতীয় নারী সহপাঠী প্রথমে দূরে সরে যান। পরক্ষণে কৌরের অবস্থা দেখতে ফিরে আসেন। এরপর অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ থেকে দৌড়ে বের হয়ে যান। পুলিশ জানায়, রাজ কেন কৌরকে হত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। পুলিশের তথ্যমতে, তাঁরা দুজনই তরন তারান জেলার উসমা গ্রামে অবস্থিত একটি আইন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।