ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ষষ্ঠবারের মতো ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দুই নেতার এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সফরের মূল লক্ষ্য: ইরানকে নিরস্ত্রীকরণ
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, নেতানিয়াহুর এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির গতিপথ নির্ধারণ করা। বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু।
যাত্রার আগে নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। ইরানকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনতে বাধ্য করা হবে। এটি শুধু ইসরায়েল নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: হয় চুক্তি, না হয় কঠিন পদক্ষেপ
নেতানিয়াহুর সফরের দিনই ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে তেহরানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, না হয় আমাদের খুব কঠিন কিছু (আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ) করতে হবে।
সতর্ক অবস্থানে ইরান, ওমানে লারিজানি
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন নেতানিয়াহুর ধ্বংসাত্মক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে।
এদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে বর্তমানে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থান করছেন লারিজানি। সেখানে তিনি ওমানের সুলতান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।