image

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

টাইম ম্যাগাজিনের আয়নায় আগামীর রূপরেখা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে "বীরের বেশে" স্বদেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার হাল ধরতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন সাময়িক "টাইম" এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক "নতুন বাংলাদেশ" গড়ার মহাপরিকল্পনা।

ওই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার।

​টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব নয় যদি না পুরো জাতিকে একটি সাধারণ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা যায়। গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক ক্ষত, বিনা বিচারে হত্যা ও গুমের যে কালো ছায়া দেশকে আচ্ছন্ন করেছিল, তা মুছে ফেলে প্রতিহিংসামুক্ত এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়া হবে না, বরং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে। দেশের যুব বেকারত্ব দূর করতে এবং বেকারদের জন্য "ফ্যামিলি কার্ড" এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

​কেবল অভ্যন্তরীণ নীতি নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিশেষ করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।

টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সাফ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি আগ্রহী, তবে তা হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানো এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর সরকারের। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে ডিজিটাল যুগে রূপান্তর এবং ১০ লাখ প্রবাসী কর্মীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমানের এই অগ্রযাত্রা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

» তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে মমতার উষ্ণ অভিনন্দন

সম্প্রতি