আস্থার পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় এক স্বস্তিদায়ক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
তারা জানায়, এবারের নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর সুনির্দিষ্ট কোনো আক্রমণ বা দমনের ঘটনা তাদের নজরে আসেনি।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ার ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো আডো সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন, তাদের পর্যবেক্ষকদের কাছে এমন কোনো প্রত্যক্ষ অভিযোগ বা রিপোর্ট পৌঁছায়নি যা থেকে প্রমাণ হয় কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নির্বাচনের সময় সহিংসতা বা ভীতির শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে একটি বড় ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নানা আকুফো আডো আরও উল্লেখ করেন, কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটার উপস্থিতির হার তুলনামূলক কম থাকলেও এবং কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগের কথা শোনা গেলেও, সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।
এই পর্যবেক্ষণ দল মনে করে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ গণনা প্রক্রিয়া এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি ছাড়াই এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে তারা মন্তব্য করেন।
একই সাথে "জুলাই সনদ" বা গণভোটের ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল জানায়, রেফারেন্ডামের মাধ্যমে এই সনদের শর্তাবলী এখন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন গঠিত সংসদ ও সরকারের ওপর এই সনদ বাস্তবায়নের দায় জনগণের ভোটের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ছাড়া আপিল ও অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক এই পর্যবেক্ষকরা।