image

শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলার প্রস্তুতি! ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান মোতায়েন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার সময়সূচি নিয়ে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রমতে, চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই অর্থাৎ আগামী শনিবারের মধ্যে সামরিক বাহিনী হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার প্রস্তুতি থাকলেও ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বুধবার বিকেলে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা ও ইরানের পাল্টা আঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও পেন্টাগন এটিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র‍্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক জোরালো যুক্তি রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে কূটনীতিই সবসময় প্রথম পছন্দ। তিনি গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন অভিযানকে খুব সফল বলে উল্লেখ করেন এবং ইরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

মজার বিষয় হলো, একদিকে যুদ্ধের দামামা বাজলেও অন্যদিকে জেনেভায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত পরমাণু আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অগ্রগতি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আলোচনাকে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের কারণে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে ওয়াশিংটন ক্রমাগত চাপ বাড়িয়েই চলেছে।

কর্মকর্তাদের মতে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। হোয়াইট হাউস এখন এই হামলার ফলে সৃষ্টি হওয়া সম্ভাব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি