ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই ধরনের পদক্ষেপকে “আগুন নিয়ে খেলা” হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।
সম্প্রতি সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ক্রেমলিনের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।
সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, ইরানে হামলার পরিণতি কারও জন্যই শুভ হবে না। গত বছরের জুনে জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে থাকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তাতে বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মনোভাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানকার কোনো দেশই নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নয়, কারণ সবাই জানে যুদ্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে উত্তেজনার পারদ চড়লে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে নেওয়া সাম্প্রতিক ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ভেস্তে যেতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পুনরায় স্থাপিত বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ল্যাভরভ এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা দিলেন যখন গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমান ও সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পরমাণু সংলাপ শুরু হয়েছে। যদিও দুই দেশের আলোচনায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট সমঝোতায় না পৌঁছায় তবে দেশটির জন্য “ভয়ঙ্কর কিছু” অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানও পিছিয়ে নেই। গত মঙ্গলবার রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের এলিট বাহিনী আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি বা আক্রমণ এলে তার সমুচিত জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অর্থ-বাণিজ্য: ১৮ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রেমিট্যান্স
আন্তর্জাতিক: আইএস শিবির থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা