চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর এবং সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিটি ইজারা নেওয়ার ব্রিটিশ পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘দিয়েগো গার্সিয়া হাতছাড়া করবেন না।’
গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের এসব দ্বীপ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। যুক্তরাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বড় ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দ্বীপগুলো ছেড়ে দিলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে যুক্তরাজ্যের জন্য এক কলঙ্কজনক ঘটনা।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের হাতে ছেড়ে দেওয়ার যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু তার এক দিন পরই খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ–সংক্রান্ত চুক্তিটি যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এই চুক্তি প্রয়োজন। দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি ভারত মহাসাগরের অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিলেও আগামী ৯৯ বছরের জন্য দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি ইজারা বা লিজ নেবে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বলছি, দেশের ক্ষেত্রে লিজ বা ইজারা কোনো কাজে আসে না। ১০০ বছরের লিজে সই করে তিনি বড় ভুল করছেন।’
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যদি তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ‘বিপজ্জনক’ দেশটির হামলা মোকাবিলায় দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জটি ১৮১৪ সাল থেকে ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরির জন্য যুক্তরাজ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করেছিল। মরিশাস দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, স্বাধীনতার বিনিময়ে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেড়ে নিয়ে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এই ঘটনাকে স্টারমার সরকারের জন্য ‘চরম অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ট্রাম্পের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে চুক্তিটি বাতিলের দাবি তুলেছেন।
অর্থ-বাণিজ্য: ১৮ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রেমিট্যান্স
আন্তর্জাতিক: আইএস শিবির থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা