image
ছবিঃ সংগৃহীত

জেনেভায় ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, কাটেনি অচলাবস্থা

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি গত মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চললেও বুধবার মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় শেষ হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা এই বৈঠককে ‘কঠিন’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্রেমলিনের আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি মূল বৈঠকের পর ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন, তবে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি।

ইউক্রেনীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফ্রন্ট লাইন বা সম্মুখ সমরের অবস্থান এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের মতো ‘সামরিক ইস্যুতে’ কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে ভূখণ্ডগত বিরোধ নিরসনে কোনও ঐকমত্য হয়নি। রাশিয়া পুরো ডনবাস অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে, যা মানতে নারাজ ইউক্রেন।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন আলোচক মেদিনস্কি আলোচনাকে ‘পেশাদার’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দ্রুতই পরবর্তী বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আলোচনার অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হলো জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ। ইউরোপের বৃহত্তম এই কেন্দ্রটি ২০২২ সাল থেকে রুশ দখলে রয়েছে। ইউক্রেন এটি ফেরত চায় এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে মস্কো রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া জেলেনস্কি তার দেশের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর জোর দিচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের উচিত দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসা। তবে জেলেনস্কি এই চাপকে ‘অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, ডনবাস ছেড়ে দেওয়ার যেকোনো প্রস্তাব গণভোটে ইউক্রেনীয়রা প্রত্যাখ্যান করবে।

জেনেভায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ইউক্রেনের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছেন। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ ‘অপরিহার্য’।

আগামী মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হলেও শান্তি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি