এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তারের পর ছাড়া পেলেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পুলিশ বলেছিল, বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করার সময় অ্যান্ড্রু দোষী সাব্যস্ত যৌন নিপীড়ক এপস্টিনের কাছে নথি পাঠিয়েছিলেন এমন একটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা রাজপরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ঘটনা আধুনিক সময়ে নজিরবিহীন।
এদিকে, এক বিবৃতিতে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরে আমি উদ্বিগ্ন বোধ করছি।’
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় এলশাম শহরের একটি থানা থেকে আন্তর্জাতিক মান সময় সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে বের হতে দেখা যায়। সেখানে অল্পসংখ্যক আলোকচিত্রী ও টেলিভিশন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, টেমস ভ্যালি পুলিশ পরে জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ‘তদন্তাধীন অবস্থায়’ ছাড়া হয়েছে।
বাকিংহাম প্যালেস বলেছে, অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা আগে থেকে জানত না। তবে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, কর্তৃপক্ষকে তাঁর পরিবার ‘পূর্ণ মাত্রায় এবং আন্তরিকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা’ দেবে।
রাজা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আইনকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে।’
গতকাল রাজা তৃতীয় চার্লস লন্ডনে একটি ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানে হাজির হলেও তিনি অ্যান্ড্রুর বিষয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র অ্যান্ড্রু বরাবরই এপস্টিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো অন্যায় কাজে জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এপস্টিনের সঙ্গে একসময়ের বন্ধুত্ব নিয়েও তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন।
অ্যান্ড্রুর দপ্তরের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। মার্কিন সরকার এপস্টিন-সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।
২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌনকাজে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগে জেফরি এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
নথিগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ২০১০ সালে সরকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছিলেন অ্যান্ড্রু। ওই সব ভ্রমণ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন তিনি এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রথম সামনে আসার পর ২০১১ সালে অ্যান্ড্রুকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
টেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আমরা এখন সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের এই অভিযোগ নিয়ে (অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে) আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।’
রাইট আরও বলেন, ‘এই মামলার প্রতি জনসাধারণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আমরা উপযুক্ত সময়ে হালনাগাদ তথ্য জানাব।’
গতকাল সর্বশেষ এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে সাবেক এই প্রিন্সের জন্য নতুন করে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ২০১৯ সালে তাঁকে সব রাজদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হয়।
রে অ্যান্ড্রু এপস্টিন সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস গত অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি ও অন্যান্য সম্মাননা বাতিল করেন। বলা হয়, তিনি এখন থেকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন।
নগর-মহানগর: বসন্তের আকাশ হঠাৎ অন্ধকার, মনে বিষণ্ণতার ছায়া
সারাদেশ: কুষ্টিয়ায় সড়কে ধুলোদূষণ, বাতাসে বিষ
অপরাধ ও দুর্নীতি: সড়কে পরিবহনের চাঁদা আসে জনগণের পকেট থেকে