আফগানিস্তানের ভূমি সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে- এ অভিযোগ তুলে এবার কাবুলকে ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ (কূটনৈতিক পরিভাষায় ডিমার্শ) দিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিামাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন সেনা। তার জেরেই পাঠানো হয়েছে এই চরমপত্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাজাউরে সেনা-পুলিশ নিরাপত্তা চৌকিতে ফিৎনা আল খারিজি বা টিটিপির আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১১ জন সেনা নিহত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, হামলাকারী জঙ্গিরা আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। পাকিস্তান এই হামলার সর্বোচ্চ নিন্দা জানাচ্ছে এবং আফগানিস্তানের সরকারকে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চরমপত্র দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন সরকার যেন তাৎক্ষণিক, সুনির্দিষ্ট এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে তালেবান সরকারের মধ্যে যদি কোনো প্রকার গড়িমসি পরিলক্ষিত হয়, তাহলে নিজেদের সেনাবাহিনী, বেসামরিক জনগণ এবং ভৌগলিক অখ- রক্ষার স্বার্থে খারিজিদের এবং তাদের মদতদাতাদের নিশ্চিহ্ন করতে পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার পাকিস্তান রাখে।”
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের লিখিত নথিতে টিটিপিকে সবসময় ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে সম্বোধন করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি হামলার ২ দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানি সফরে যান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সেদিন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “(গত শতাব্দির) আশির দশকে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে দিয়ে এবং ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ৯/১১ হামলার সময় তালেবানদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আমরা যে ভুল করেছিলাম, তার মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। এখন আর আমাদের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে প্রয়োজনে আফগানিস্তানে বিমান অভিযান চালাতে আমরা দ্বিধা করব না।”