এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ অবৈধ ঘোষনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। আন্তর্জাতিত সংবাম সংস্থা এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে একের পর এক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন তা তার এখতিয়ার বহির্ভূত।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টে মোট ৯ জন বিচারপতি ছিলেন। এই বিচারপতিদের মধ্যে ৬ জনই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, “ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।”
সুপ্রিম কোর্ট যখন এই রায় ঘোষণা করেছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অপমানজনক। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার আমার আছে।”
এর আগে গত বছর ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল আপিল আদালতে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে সেই পিটিশনের রায়ে ফেডারেল আপিল আদালত বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিধিবহির্ভূত ব্যবহার করছেন। শুক্রবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখলেন।
গত বছরের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এতদিন কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন ট্রাম্প। ওই বছরের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) হাতিয়ার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেছেন এমন নজির নেই।