image

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি: কমছে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি খরচ?

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি: কমছে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি খরচ?

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির শুল্ক নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আদালতের রায়ে আগের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় এবং ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকরের ঘোষণায় বাংলাদেশের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য শুল্কের বোঝা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই রায়ের ফলে হোয়াইট হাউজ আগের বিতর্কিত শুল্কগুলো আর সংগ্রহ না করার ঘোষণা দেয়।

তবে আদালতের এই রায়ের পরপরই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নতুন এক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, একটি নতুন আদেশের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই নতুন শুল্ক হার আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ১২টা ১ মিনিট) থেকে কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে ১৫০ দিন বহাল থাকবে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী:

•বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ছিল মোট ৩৪ শতাংশ (১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্ক + ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক)।

•তবে নতুন বৈশ্বিক শুল্কের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করেছে (যেমন: যুক্তরাজ্য, ভারত, ইইউ ও বাংলাদেশ), তাদের ক্ষেত্রে আগের জটিল শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তে ১০ শতাংশ বেজলাইন বা বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হতে পারে।

যদি ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে আগের সব শুল্ক বাতিল করে কেবল এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে শুল্কের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

চুক্তির একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়া হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কিছু খাদ্যপণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি ও বিবিসির তথ্যমতে, ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপে অনেক দেশের শুল্কহার আগের তুলনায় কমতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে, যদি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই ১০ শতাংশ শুল্ককেই চূড়ান্ত বেজলাইন হিসেবে কার্যকর করা যায়। এতে করে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি