ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার কঠোর জবাব দিতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
অভিযানে অত্যাধুনিক এফ-১৬ (F-16) এবং জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, সম্প্রতি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলাসহ পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে টিটিপি জড়িত। একই দিনে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ।
আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। হামলার পরপরই তালেবানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি জরুরি বৈঠকে বসেন। পাকিস্তানকে এই হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এবং তালেবান নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে এই পাল্টা অভিযান চালানো হবে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হওয়া এই বিস্ফোরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের সরবরাহকৃত তথ্যে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ ও নিরাপত্তা সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।