দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এবার খোদ নিজের দেশের নাগরিকদের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তা ও গৃহীত নীতি নিয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিকে একটি ভুল পথে পরিচালিত করছেন।
প্রেসিডেন্টের বার্ষিক “স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন” ভাষণের ঠিক আগ মুহূর্তে এনপিআর, পিবিএস নিউজ এবং ম্যারিস্টের যৌথ পরিচালনায় এই জরিপটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ট্রাম্পের শাসনামলে দেশের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের একই সময়ের তুলনায় এই নেতিবাচক মনোভাবের হার প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় বিভাজন এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের প্রায় ৯০ শতাংশই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের ৮২ শতাংশ মনে করছেন দেশ সঠিক পথেই রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, খোদ রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি আস্থা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। দলটির সমর্থকদের একটি অংশ এখন ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা এবং নৈতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। গত বছরের তুলনায় রিপাবলিকান শিবিরে তার প্রতি সমর্থন ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও আদালতের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নাগরিকদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।
২০২৫ সালের শুরুতে যেখানে ৪৩ শতাংশ মানুষ এই কাঠামোর ওপর আস্থা রাখতেন, বর্তমানে তা কমে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া পিউ রিসার্চ সেন্টারের অপর এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্টের গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনাগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই এই ধরনের জনমত তার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও মেরুকরণ আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
মূলত বিচার বিভাগের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, নতুন শুল্ক আরোপ এবং বিতর্কিত প্রশাসনিক রদবদলের কারণেই সাধারণ মার্কিনীরা বর্তমান সরকারের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।