image

পঞ্চম বছরে ইউক্রেইন যুদ্ধ, রুশ বিজয় অনিশ্চিত

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছর পেরিয়ে এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে রাশিয়া বারবার তাদের বিজয় অনিবার্য বলে দাবি করলেও, রণক্ষেত্রের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পাল্টা আক্রমণ এবং রুশ বাহিনীর বিশাল ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করছে যে, কিয়েভের প্রতিরোধ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স স্টাডিজ (সিএসআইএস) এবং ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে নিহত সেনার সংখ্যাই প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার। এটি ইউক্রেনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশের ৫৫ হাজার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।

বর্তমানে রাশিয়ার আক্রমণ অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়েছে। ডোনেস্কের কৌশলগত শহর চাছিভ ইয়ারে রুশ বাহিনী দিনে গড়ে মাত্র ১৬ গজ এগোতে পারছে। গত এক বছরে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ০.৮ শতাংশ এলাকা দখল করতে সক্ষম হয়েছে।

সম্প্রতি জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, তারা প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, হুলিয়াইপোল শহরের কাছে দুই সপ্তাহে প্রায় ৩৯ বর্গমাইল এলাকা রাশিয়ার দখলমুক্ত হয়েছে।

এছাড়া উত্তর-পূর্বের কুপিয়ানস্ক শহর থেকেও রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনীয় কমান্ডার ক্যাপ্টেন দিমিত্রো ফিলাতভ জানান, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল ভূখণ্ড উদ্ধার নয়, বরং রাশিয়ার দুর্বল জায়গায় আঘাত করে তাদের সংরক্ষিত বাহিনীকে নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েনে বাধ্য করা।

যুদ্ধে ড্রোন বড় ভূমিকা রাখছে। রাশিয়া ‘মোলনিয়া’ নামক ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনের সাপ্লাই লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছিল। তারা ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স কোম্পানির স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব ড্রোনের আওতা বাড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি রুশ বাহিনীর জন্য স্টারলিংক সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় মস্কো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই ইউক্রেন জাপোরিজ্জিয়ায় পাল্টা আঘাত হেনেছে।

রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র সচল রাখার প্রধান উৎস হলো খনিজ তেল। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের ওপর মার্কিন চাপের কারণে রাশিয়ার ‘ইউরাল’ ক্রুড অয়েলের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় অনেক কমে গেছে। জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক জেনিস ক্লুগে বলেন, আগে রাশিয়ার অর্থনীতিকে অপরাজেয় মনে হলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই।

সিএসআইএস-এর প্রেসিডেন্ট সেথ জোনস মনে করেন, সামরিকভাবে জিততে না পেরে পুতিন এখন ট্রাম্পের সামনে অর্থনৈতিক চুক্তির টোপ দিচ্ছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করা অথবা কিয়েভকে এমন ভূখণ্ড ছাড় দিতে বাধ্য করা যা রুশ বাহিনী এখনও দখল করতে পারেনি।

ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার কার্নস বলেন, রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধে লিপ্ত। এই সময়ে তারা ৪ হাজার ট্যাংক ও ১০ হাজার সাঁজোয়া যান হারিয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি