এপস্টিন কেলেঙ্কারি
বিশ্বের প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। মানবকল্যাণে বিলিয়ন ডলার দান করা এক দাতব্য সাম্রাজ্যের কর্ণধার। কিন্তু সেই নামই আবার জড়িয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন বিতর্কে।
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবার নিজেই স্বীকার করেছেন- দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। যা পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন জেফ্রি এপস্টিন। এই স্বীকারোক্তি এসেছে গেটস ফাউন্ডেশনের এক অভ্যন্তরীণ ‘টাউন হল’ সভায়। খবরটি প্রকাশ করেছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গুঞ্জনের আগুনে নতুন ঘি
দীর্ঘদিন ধরেই গেটস ও এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। প্রশ্ন উঠেছিল- কেন একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন? এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল গেটসের স্বীকারোক্তি। তিনি জানান, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তবে স্পষ্ট করে বলেন- ওই নারীরা এপস্টিনের পাচারের শিকার বা ভুক্তভোগী ছিলেন না।
এক বিবৃতিতে গেটস ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, গেটস কর্মীদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভায় অংশ নিয়ে এপস্টিন-সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেন।
‘বিরাট ভুল’
সভায় গেটস বলেন, এপস্টিনের মতো একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের তাকে নিয়ে বৈঠকে যাওয়াটা ছিল “বিরাট ভুল”।তার ভাষায়,“আমার ভুলের কারণে যারা এই বিষয়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন—তিনি কোনো বেআইনি কাজে যুক্ত ছিলেন না।“আমি অবৈধ কিছু করিনি। আমি অবৈধ কিছু দেখিওনি,” কর্মীদের উদ্দেশে বলেন তিনি।এই বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট ছিল এক ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থন, আবার একই সঙ্গে দায় স্বীকারের সুর।
রহস্যময় ছবি, ঝাপসা মুখ
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে কিছু ছবি সামনে আসে। সেখানে বিল গেটসকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে পোজ দিতে দেখা যায়। তবে নারীদের মুখ ঝাপসা করে রাখা হয়েছিল।এই ছবিগুলো নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। গেটস জানান, ছবিগুলো তোলা হয়েছিল বৈঠকের পর, এপস্টিনের অনুরোধে তার সহকারীদের সঙ্গে।তিনি পরিষ্কার করে বলেন,“আমি কখনও ভুক্তভোগী বা তার (এপস্টিন) চারপাশের নারীদের সঙ্গে কোনও সময় কাটাইনি।”
সম্পর্ক-দাতব্য
এর আগে গেটস দাবি করেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল দাতব্য কাজসংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করাটা ভুল ছিল।কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-একজন কুখ্যাত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ কেন বজায় ছিল? কেন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদেরও সেই বৈঠকে নেওয়া হয়েছিল?গেটসের ভাষায়, সেটি ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সম্পর্ক কেবল ‘ভুল’ শব্দে সীমাবদ্ধ নয়-এটি বিচারবোধ ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্নও তুলে দেয়।
বিতর্কের ছায়া কত দূর?
জেফ্রি এপস্টিনের নাম একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়েছে। সেই তালিকায় বিল গেটসের নাম থাকা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার আলোচনায়।এবার নিজের মুখে দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করায় সেই বিতর্ক যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিল। যদিও গেটস জোর দিয়ে বলেছেন- কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন না, এবং সংশ্লিষ্ট নারীরা এপস্টিনের ভুক্তভোগী ছিলেন না।
তবু জনমনে প্রশ্নের শেষ নেই। বিশ্বের অন্যতম দাতব্য ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তিতে এই কেলেঙ্কারির প্রভাব কতটা পড়বে? এপস্টিন-সম্পর্কিত নথি প্রকাশের ধারাবাহিকতায় সামনে আসবে কি আরও অজানা তথ্য?নাকি গেটসের এই স্বীকারোক্তিই বিতর্কের ইতি টানবে? একটি ‘ভুল’- না কি আরও গভীর কোনো গল্পের সূচনা- এ মুহূর্তে সেটাই বড় প্রশ্ন।
নগর-মহানগর: ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না টিসিবির পণ্য
অপরাধ ও দুর্নীতি: খালাস পেলেন আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া খান আকরাম
সংস্কৃতি: অমর একুশে বইমেলা অবশেষে শুরু আজ
অপরাধ ও দুর্নীতি: এবার সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরাতে ‘চিঠি দিয়েছিলেন’ তাজুল
নগর-মহানগর: ঢাকাকে গিলে ফেলেছে বিষাক্ত বায়ু
অপরাধ ও দুর্নীতি: চাঁদাবাজ–কিশোর গ্যাং দমনে রাতভর অভিযান, আটক শতাধিক