image

এপস্টিনের ডেরায় স্টিফেন হকিংও

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

নীল জলের বুক চিরে ভেসে ওঠা এক দ্বীপ। দূর থেকে দেখলে স্বর্গ, কাছে গেলে ফিসফিসে গুঞ্জন- অন্ধকার, প্রলোভন আর গোপন আড্ডার গল্প। সেই দ্বীপের মালিক বিতর্কিত ধনকুবের জেফারি এপিস্টেন। আর সেখানে একদিন উপস্থিত হয়েছিলেন মহাবিশ্বের রহস্যভেদী বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের দৃশ্য। চারপাশে বিলাস, সাগর, ককটেল আর উচ্ছ্বাস- আর মাঝখানে হুইলচেয়ারে বসা এক মানুষ, যার শরীর প্রায় অচল, অথচ মস্তিষ্ক ছুটে বেড়ায় ব্ল্যাক হোলের কিনারায়। ২০০৬ সালে মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট থমাসে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। আলোচনার বিষয় ছিল কোয়ান্টাম কসমোলজি- মহাবিশ্বের জন্ম আর অনিশ্চয়তার গণিত।

কিন্তু ছবিগুলো অন্য গল্প বলে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনাইটেড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, সেই সফরে হকিংকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসেও যেতে হয়েছিল। একটি ছবিতে তাঁকে দেখা যায় সমুদ্রতীরে, পাশে দুই নারী, হাতে ককটেলের গ্লাস। দৃশ্যটি যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার ফ্রেম- যেখানে বিজ্ঞানের নির্মোহতা আর বিলাসের ঝলক এক অস্বস্তিকর রেখায় মিলেছে।

এপস্টিনের দ্বীপ ঘিরে বহু বছর ধরেই নানা অভিযোগ, গুজব আর আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস। ২০১৫ সালে আদালতে প্রকাশিত নথিতে উঠে আসে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত- এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে নাকি বলা হয়েছিল, হকিংকে নিয়ে একটি মিথ্যা কাহিনি দাঁড় করাতে পারলে তা আইনি লড়াইয়ে কাজে লাগতে পারে। অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফারের নামও সেই নথিতে ছিল। অর্থাৎ, হকিংয়ের নাম হয়তো কেবল এক দাবার গুটি- ক্ষমতা আর প্রভাবের খেলায় ব্যবহৃত একটি প্রতীক।

আরও বিস্ময়কর তথ্য- হকিংয়ের জন্য নাকি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল একটি সাবমেরিন, যাতে তিনি সমুদ্রতল দেখতে পারেন। এ যেন এক অদ্ভুত রূপক: যে মানুষ মহাবিশ্বের গভীরতা মাপতেন, তাকে দেখানো হচ্ছে সমুদ্রের অতল। বিলাস, কৌতূহল আর ক্ষমতার অদ্ভুত মিশ্রণ।

হকিং পরিবার অবশ্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে- তার বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের কোনো ইঙ্গিতই ভিত্তিহীন। নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়- এ সতর্কবার্তাও যুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবু প্রশ্নগুলো থেকে যায়। একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী কি জানতেন, যে আতিথ্যের আড়ালে কত বিতর্কের ছায়া? নাকি তিনি ছিলেন কেবল একজন আমন্ত্রিত বক্তা- যার চারপাশে তৈরি হয়েছিল এক জটিল, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ?

২০১৮ সালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন হকিং। তার জীবনের সমীকরণে ব্ল্যাক হোলের তথ্যপ্যারাডক্সের সমাধান ছিল, কিন্তু এপস্টিনের দ্বীপের এই অধ্যায় রয়ে গেছে ধোঁয়াশায়। হয়তো ইতিহাস একদিন আরও স্পষ্ট করে দেবে- এই ছবি কি ছিল নিছক একটি মুহূর্ত, নাকি ক্ষমতা, প্রভাব আর প্রলোভনের অদৃশ্য জালের এক অনিবার্য ফ্রেম।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি