image

মার্কিন-ইরান প্রস্তুত

পাক-আফগানের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

পাকিস্তান–আফগানিস্তান যুদ্ধ ঘোষণা যখন আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাড়ছে।ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। যে প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে ইসরায়েল উপকূলে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান ইতোমধ্যে ইসরায়েলে মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে সামরিক চলাচল ও ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ডেটা পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পাঁচটি মার্কিন কেসি-৪৬এ রিফুয়েলিং বিমান নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। আরেকটি ট্যাংকার নর্থ ক্যারোলাইনার সেমুর জনসন বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এসব রিফুয়েলিং বিমান দীর্ঘপাল্লার বিমান হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ আকাশে থেকেই যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করা যায়।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন এফ-৩৫ বিমান বিশেষভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক উপস্থিতি নয়। বরং আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত বহন করে।

ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবাহী রণতরী। এটি একসঙ্গে ৭৫টির বেশি বিমান বহন ও পরিচালনা করতে সক্ষম। রণতরীটি যেখানে অবস্থান নেয়, সেখানে কার্যত একটি ভাসমান সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়। ইসরায়েল উপকূলে এর উপস্থিতি কৌশলগত বার্তা বহন করছে- বিশেষত ইরানের প্রতি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে ইসরায়েল–হামাস সংঘাত, লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্রিয়তা এবং লোহিত সাগরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রস্তুতির খবর পুরো অঞ্চলে নতুন মাত্রার উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন ফ্রন্টে সক্রিয় হতে পারে, যার ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব তেল সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু।

তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত’ ঘোষণা করা হয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি হতে পারে চাপ প্রয়োগের কৌশল- এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন। যাতে ইরান বা তার মিত্ররা সামরিক তৎপরতা থেকে বিরত থাকে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এত বড় মাত্রার সামরিক সমাবেশ কেবল বার্তা দেওয়ার জন্য নয়; বরং প্রয়োজনে দ্রুত হামলা চালানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে অতীতে বহুবার উত্তেজনা চরমে উঠেছে। তবে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সরাসরি যুদ্ধ এড়ানো গেছে। এবারও কি সেই পথেই পরিস্থিতি যাবে, নাকি সত্যিই নতুন এক আঞ্চলিক যুদ্ধে দামামা বাজবে- সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্দরে।

পাক–আফগান সংঘাতের পর যখন দক্ষিণ এশিয়া অস্থির, তখন মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মার্কিন–ইরান সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সামরিক প্রস্তুতি, যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং বিশ্বের বৃহত্তম রণতরীর উপস্থিতি- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি টান টান উত্তেজনায় ভরপুর। এখন নজর কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ নাকি সংলাপ, কোন পথে এগোয় বিশ্বরাজনীতি।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি