জেনেভায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের আচরণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান কাঙ্ক্ষিত ছাড় না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কড়া বার্তা দেন।
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের শর্ত মেনে ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি নয়।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তারা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে এর কাছাকাছি কেউ নেই। আমি চাই না সেটি ব্যবহার করতে। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করতেই হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব কূটনীতিতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে: তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস থেকে কর্মী প্রত্যাহার করেছে। ইসরায়েল থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মীদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে। নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ সতর্কতা জোরদার করেছে এবং ইসরায়েল সফরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সোমবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠকে ইরান ইস্যু ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিমানবাহী রণতরী। ইসরায়েল উপকূলে অবস্থান করছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক: বলিভিয়ায় সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১