মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে এবার সরাসরি ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শনিবার এই আকস্মিক হামলা চালানো হয় বলে আইডিএফ এর বরাত দিয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
তবে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা ইরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলটিতে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। শনিবারের এই নতুন হামলা সেই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, এটি একটি প্রাকৃতিক সতর্কতা যেন জনগণ প্রস্তুত থাকে এবং ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনা থাকলে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এ হামলার পর আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান এবং ইরাক। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর তারা তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
অপরদিকে ইরাকের বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, ইরাকি আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।
এর আগে ইরানে হামলা চালানোর পর বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী।
আল জাজিরা জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহৌরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবন লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
হামলার পর ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কড়া নজরদারি চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যদি সরাসরি কোনো পাল্টা জবাব দেয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে।