মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’র বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরনা জানায়, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে আজ সকালে ওই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় সকালবেলায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে সরাসরি হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় নগর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমের বলেন, হামলার সময় বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। ভবনের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা বলছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একই সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ‘শত শত সামরিক স্থাপনায় হামলা’ চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইসরায়েল আরও বলেছে, ইরান থেকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রতিরোধে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে ‘নির্বিচার আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধবিধির লঙ্ঘন। মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তেহরান।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে। এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ ও সমুদ্রপথে ‘ব্যাপক’ হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমানে হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত রয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বিদ্যালয়ে হামলার খবর যদি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
মিনাব শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের খোঁজে হাসপাতালে ও ধ্বংসস্তূপের পাশে ভিড় করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, রক্তাক্ত বই-খাতা এবং কান্নারত অভিভাবকদের দৃশ্য দেখা গেছে—যদিও এসব ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যেই চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না- বরং পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল, লেবানন ও সিরিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- এই হামলার পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে? কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি সংঘাত থামাতে পারবে, নাকি প্রতিশোধ-প্রতিপ্রতিশোধের চক্র আরও ভয়াবহ রূপ নেবে? নিহত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত
আন্তর্জাতিক: পরাশক্তির ইন্ধনে ভয়াবহ যুদ্ধে এশিয়া-ইউরোপ
অর্থ-বাণিজ্য: বাজার মূলধন বাড়লো ৮ হাজার কোটি টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: জিডিপির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না
অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ফের বাড়লো