image

মার্কিন-ইসরায়েলকে হুমকি দিল ইরান

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, এই হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়া হবে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরান বলেছে, ইরানি জাতি কখনো বিদেশি আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

বিবৃতিতে সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক সামরিক আগ্রাসন’-এর কঠোর নিন্দা জানানো হয়। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা শুধু ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনই নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইতিহাস সাক্ষী, ইরানিরা কখনো বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। এবারও ইরানি জাতির প্রতিক্রিয়া হবে সিদ্ধান্তমূলক ও নির্ধারক, যা আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কাজের জন্য অনুতপ্ত করে তুলবে।’ এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক সরাসরি সামরিক জবাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তেহরান আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ এমন এক সময় এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি জনগণ গর্বিত যে তারা যুদ্ধ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে। এখন সময় মাতৃভূমি রক্ষা করার এবং শত্রুর সামরিক আগ্রাসনের মোকাবিলা করার।’ একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও কার্যকর জবাব দেবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সরাসরি জবাব এ অঞ্চলে আরও বিস্তৃত সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তেহরান জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন এই হামলার ‘কঠোর নিন্দা’ জানায় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তাকে যে নজিরবিহীন হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে, তা মোকাবিলায় জরুরি ও সমষ্টিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া জরুরি।

এদিকে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের এই বিবৃতির সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইরানের এই কঠোর ভাষার বিবৃতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান সংঘাত এড়িয়ে যেতে চাইলেও সরাসরি হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক পথ আবার সক্রিয় হয় কি না, নাকি উত্তেজনা নতুন এক সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ফের বাড়লো