খামেনির মৃত্যু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরে পাকিস্তানের করাচি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১ মার্চ) মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানি দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই করাচিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে রোববার (১ মার্চ) কয়েক শ মানুষ মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয় একটি উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন বলেছেন, করাচির সিভিল হাসপাতালে অন্তত আটজনের মরদেহ পাঠানো হয়েছে। পরে বিভিন্ন সূত্রে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জন হওয়ার কথা জানা যায়। তিনি জানান, আহতদের বেশির ভাগের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে কনস্যুলেট ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। আল জাজিরার প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের কমপাউন্ডে ঢুকে পড়েন এবং ভবনের একটি জানালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুলি চালানোর বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে কি না- তা স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, খামেনির মৃত্যুর খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিবৃতি দেয়নি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হামলা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক রাজনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
করাচির বিক্ষোভ নতুন করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ায় জনমতকে দ্রুত প্রভাবিত করছে, বিশেষ করে যেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা গভীর। ফলে আন্তর্জাতিক কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া স্থানীয়ভাবে সহিংস রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে করাচির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সব মিলিয়ে খামেনির মৃত্যুর খবরে করাচিতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা শুধু একটি শহরের ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।
অর্থ-বাণিজ্য: ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য কত, কেমন প্রভাব পড়বে
অপরাধ ও দুর্নীতি: শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার
আন্তর্জাতিক: ইরানের হাল ধরতে যাওয়া কে এই লারিজানি