image

খামেনির স্ত্রীও মারা গেলেন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (২ মার্চ) তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলার সময় সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ওই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও হতাহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি দুই দিন কোমায় থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৭ সালে ইরানের মাশহাদ শহরের এক সম্মানিত বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মানসুরেহ। তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের এই দাম্পত্য জীবন ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্বামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ সারা জীবন রাজনীতি ও জনসমক্ষ থেকে দূরে ছিলেন। ইরানের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবারের সদস্যদের বিপরীতে তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করেননি বা সরকারি কোনো পদে আসীন হননি। সংসার ও সন্তানদের লালন-পালনকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে, কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি নীরবে স্বামীর পাশে ছিলে। তাকে সমর্থন করে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল ক্যামেরা ও বক্তৃতার বাইরে, একান্ত নিজের গণ্ডিতে। এই দম্পতির চার ছেলে ও দুই মেয়ে- মোস্তফা, মোজতাবা, মাসউদ, মাইসাম, বোশরা ও হোদা।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, নিজ দপ্তরে ‘দায়িত্ব পালনকালে’ তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কান্নাভেজা কণ্ঠে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়। দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও নাতিসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি