ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে স্পেন। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা কোনো ঘাঁটি এই যুদ্ধের সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
স্প্যানিশ সম্প্রচারক টেলিসিনকো-এর সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস বলেন, এই অভিযানের জন্য স্প্যানিশ ঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে নেই বা জাতিসংঘের সনদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোনো কাজের জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নেই।
একই সুর শোনা গেছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ-এর কণ্ঠেও। তিনি গত শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে অযৌক্তিক এবং বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ স্পেনের রোটা এবং মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে কমপক্ষে ১৫টি মার্কিন বিমান ত্যাগ করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৭টি বিমান জার্মানির রামস্টাইন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস জানিয়েছেন, মানবিক প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
স্পেনের এই অবস্থান পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনের সাথে মাদ্রিদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও রোববার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্মিলিত আত্মরক্ষার অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যখন অগ্নিগর্ভ, তখন স্পেনের এই অবস্থান দেশটিকে ইউরোপের অন্যান্য মিত্রদের থেকে কিছুটা আলাদা অবস্থানে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেশের রপ্তানি খাতে নতুন হুমকি
অর্থ-বাণিজ্য: দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পচে যাচ্ছে পণ্য
আন্তর্জাতিক: ইরানে হামলার কারণ জানালেন নেতানিয়াহু
অর্থ-বাণিজ্য: সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ