image

খামেনি হত্যা: ৬০ সেকেন্ডের অভিযানে সিআইএ-মোসাদের যোগসূত্র

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল কয়েক দশকের দীর্ঘ পরিকল্পনা এবং ইসরায়েলি মোসাদ ও মার্কিন সিআইএ র নজিরবিহীন সমন্বয়। গত শনিবার তেহরানে মাত্র ৬০ সেকেন্ডের সেই বিধ্বংসী অভিযানে খামেনিসহ ইরানের অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই চূড়ান্ত অভিযানের জন্য গত ছয় মাস ধরে সিআইএ তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত ও জনবল সহায়তা ইসরায়েলকে দিয়ে আসছিল। সিআইএ র একজন সাবেক কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে একটি বিশাল জিগস পাজল এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দারা খামেনির দৈনন্দিন রুটিন, এমনকি তিনি কী খাবার খান বা তাদের ফেলে দেওয়া আবর্জনা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, খামেনি ঠিক কখন কোন ভবনে বৈঠকে থাকবেন, সেই সুনির্দিষ্ট সময়টি ইসরায়েলকে জানিয়েছিল সিআইএ। এর ভিত্তিতেই শনিবার সকালে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলাটি চালানো হয়।

ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, মাত্র এক মিনিটের ঝটিকা অভিযানে খামেনির পরিবারের এক ডজন সদস্য এবং ইরানের শীর্ষস্থানীয় সাতজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ মোট ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করা হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে খামেনির কার্যালয় চত্বর থেকে এখনো কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যাচ্ছে। মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ওদেদ আইলাম বলেন, মাত্র ৬০ সেকেন্ড পুরো একটি অঞ্চল বদলে দিতে এই সময়টুকুই লেগেছে।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানের মতে, মোসাদ গত ২০ বছর ধরে ইরানের ভেতরে স্থানীয়দের নিয়ে একটি শক্তিশালী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। বর্তমান প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ফরেইন লিজিয়ন বা বিদেশি বাহিনী নামে একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করেছেন, যারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে তথ্য সরবরাহ করে। ইরানিদের ফোন ব্যবহারের আসক্তি এবং অগোছালো স্বভাবকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা তাদের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছিল।

যদিও ইসরায়েলি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন এই হামলাকে এক বিশাল চমক হিসেবে দেখছেন, তবে অনেক বিশেষজ্ঞ একে বড় ধরনের কৌশলগত ভুল বলে মনে করছেন। সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা রুয়েল গেরেখ্ত সতর্ক করে বলেন, কারো নেতাকে সরিয়ে দেওয়া মানে সমস্যার সমাধান নয়, বরং নতুন একটি সমস্যার জন্ম দেওয়া। ইয়োসি মেলম্যানের মতে, অতীতে হামাস বা হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যা করলেও তাদের অস্তিত্ব মুছে যায়নি।

বিদেশের মাটিতে গুপ্তহত্যার দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও, ইসরায়েল এর আগে কখনোই কোনো রাষ্ট্রের প্রধানকে হত্যা করেনি। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি