image
ছবিঃ সংগৃহীত

খামেনি আমাকে মারার আগেই তাকে মেরেছি : ট্রাম্প

এটাই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’

সংবাদ ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে দুইবার মারার চেষ্টা করেছিলেন খামেনি। কিন্তু তার আগে তিনিই খামেনিকে মেরেছেন। এবিসি নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প উচ্ছ্বাস নিয়ে একথা বলেন। গত শনিবার সকালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন খামেনি।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের কথা ‘এক্সে’ লিখেছেন এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল। তিনি লেখেন, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে একথা বলেছেন যে, তিনি (খামেনি) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই তাকে পেয়ে গেছি। তারা দু’বার চেষ্টা করেছিল। আমিই তাকে প্রথমে পেয়ে গেলাম।’

সংবাদিক কার্ল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের একটি সূত্র মনে করে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন খামেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে প্রসঙ্গই টেনেছেন।

খামেনির মৃত্যুর পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে খবর জানিয়েছিলেন এবং খামেনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মানুষদের একজন বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি (খামেনির মৃত্যু) ইরানের মানুষের জন্য যে কেবল ন্যায়বিচার হলো তা-ই নয়, মহান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ন্যায়বিচার হলো। সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ, যারা খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গ্যাংদের হাতে নিহত হয়েছেন, তারাও ন্যায়বিচার পেলেন। তিনি (খামেনি) আমাদের উচ্চমার্গের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এড়াতে পারেননি। তিনি এবং তার সঙ্গে নিহত অন্যান্য নেতাদের কিছুই করার ছিল না।’

২০২৪ সালে ট্রাম্পকে দু’বার হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার জনসভায় তার কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ গল্ফে খেলার সময় ট্রাম্পকে মারতে ঝোপের আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকা আততায়ী ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস পর আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

# এটাই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’

ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশকে ইরানে হামলা চালাতে হয়েছে। কারণ ইরানের পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো সুযোগ ছিল। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন।

গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করার পর এই প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন সেনাসদস্যকে ‘মেডেল অব অনার’ প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

তিনি গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরানের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউরোপ এবং বিদেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। তাছাড়া দেশটি খুব শিগগিরই সরাসরি আমেরিকায় আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রয়োজন’ পড়লে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি তিনি নাকচ করছেন না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা তৃতীয় দিনে গড়ানোর পর গতকাল সোমবার ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা (রাষ্ট্রপতিরা) যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।’

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি