image

কে এই মোজতবা খামেনি

পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী উত্তরসূরি থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তাঁর ছেলে মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তেহরানে নিজ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাঁকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে। এই নাটকীয় প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে- কে এই মোজতবা, যিনি এতদিন ছিলেন আড়ালে?

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি প্রয়াত নেতার দ্বিতীয় বড় ছেলে। তিনি কোনো উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম নন। কখনও আনুষ্ঠানিক সরকারি পদেও অধিষ্ঠিত হননি। ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তাঁর প্রকাশ্য ভূমিকা ছিল না বললেই চলে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পর্দার আড়ালে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে ক্ষমতার বলয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পারিবারিকভাবে তিনি যুক্ত আছেন রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী পরিবারে। তাঁর স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ইরানের সাবেক সংসদ চেয়ারম্যান গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা। ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। সাম্প্রতিক হামলায় তাঁর স্ত্রীসহ খামেনি পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন বলে জানা গেছে। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। যদিও তাদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়।

মোজতবার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচিত। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, তিনি পর্দার আড়ালে ইরানের নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখেন এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি বৈশ্বিক সম্পদ ও বিনিয়োগ সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

সুইস ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল সম্পত্তিতে বিনিয়োগ- তাঁর আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেন কাউডক মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠরা যুক্তরাজ্যে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন- যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে তাঁর উত্থান বিতর্কমুক্ত নয়। ইরানের শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্যে পিতা থেকে পুত্রে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হস্তান্তরকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। এমনকি গত বছর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় আলী খামেনি নিজেও ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি বলে জানা যায়। ফলে মোজতবার নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরে মতভেদ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একদিকে যুদ্ধকালীন অস্থিরতা, অন্যদিকে ক্ষমতার শীর্ষে তুলনামূলকভাবে আড়ালেই থাকা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আবির্ভাব- এই দুই বাস্তবতা মিলিয়ে ইরানের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে দেশটি আরও কঠোর অবস্থানে যাবে, নাকি কৌশলগত সমন্বয়ের পথে হাঁটবে- সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি