মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ থাকায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা দাম বাড়ার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে। গত জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ দাম। অপরদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ বেরে ৭৫ ডলার ৩৭ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দেশটির তেল পরিশোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় ২০ শততম এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। টানা চতুর্থ দিনের মতো এই রুটটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওপেকের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক ইতিমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির দৈনিক গড় উৎপাদন ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনা হয়েছে। ইরাকের জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মজুদ সীমিত হয়ে আসায় এবং রফতানি পুনরায় শুরু না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন আরও অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হতে পারে।
এদিকে এই সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে এসকর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জাহাজ মালিক ও বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক টহল ও বীমা নিশ্চিত করলেও বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
এই পরিস্থিতিতে বড় ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে, অন্যদিকে চীনের কিছু শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প রুটে কিছু রফতানি সরানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫৬ লাখ ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কতদিন স্থায়ী হয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কী দিক পরিবর্তন হয়, তার ওপরই আগামী দিনে জ্বালানি তেলের বাজার দাম অনেকখানি নির্ভর করছে।
জাতীয়: বায়ু দূষণে শীর্ষে ঢাকা
আন্তর্জাতিক: দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে এবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক: নতুন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান
আন্তর্জাতিক: ইরানে হামলা, বিশ্বনেতারা কে কার পক্ষে
অর্থ-বাণিজ্য: এলএনজি কেনার জরুরি নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক: বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে জ্বালানির দাম