image

নেপালে ভোট আজ, ‘জেন জি’ ভোটারদের স্বপ্ন এখন এক মিলেনিয়াল র‌্যাপারকে ঘিরে

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

পাহাড়ঘেরা হিমালয়কন্যা নেপালে আজ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। নেপালের জনগণ আজ নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোট দেবে। গত সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি বিপ্লব’-এর পর এটিই প্রথম নির্বাচন। নেপালে আগের নির্বাচনগুলো প্রায়ই জোট সরকার আর ক্ষমতার পালাবদলের চক্রই উপহার দিয়েছে। এবার একজন র‌্যাপার ভোটারদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছেন। তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর আসনে।

নেপালে নর্বিাচন পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। নির্বাচনে কোন একক দল সংখ্যগরিষ্ঠতা পায়না। এজন্য একাধিক দল মিলে সরকার গঠন করতে হয়। এমন জটিল পদ্ধতির কারনে ২০০৮ সাল থেকে গত ১৮ বছরে প্রায় ১৪বার সরকার পতন হয়েছে, নতুন র্বিাচনের দিকে যেতে হয়েছে।

এবার নির্বাচনে মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত হবে এবং বাকি আসনগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে বণ্টিত হবে। পূরো ফল পেতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

আজ নির্ভাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, তাদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি - যা দুর্নীতি দমন ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার বদলে দরকষাকষির রাজনীতি ডেকে আনতে পারে।

নেপালে দীর্ঘ মাওবাদী বিদ্রোহ, রাজপরিবার হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৮ সালে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের অবসানের পর নেপাল গণতন্ত্রকে গ্রহণ করেছে। ভোটার উপস্থিতি সাধারণত বেশি হলেও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। ভোট উপলক্ষে প্রায় তিন লাখ ৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার বিশেষ নির্বাচন পুলিশ। এছাড়া চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় নেপাল প্রায়ই বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় থাকে।

নেপালে মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং প্রায় ১৬০ জন জেন জি প্রার্থী লড়ছেন, যাদের অর্ধেকই স্বতন্ত্র। গত বছরের বিক্ষোভে নারীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হলেও, জি জেড নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র ১৫ জন।

বহু বছর ধরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় জর্জরিত নেপাল। প্রতিবছর লাখ লাখ নেপালি কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। মানুষ এখন নিজ দেশে ন্যায্য সুযোগ এবং গত বছরের জেন জি আন্দোলনে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের বিচার চায়। ওই দমন-পীড়নের পর দেশজুড়ে সমন্বিত অগ্নিসংযোগে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়।

কে এই জেন জিদের প্রার্থী

তরুণ নেপালিদের জিজ্ঞেস করলে, কে তাদের সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত করে - উত্তরটি সম্ভবত এক শব্দেই আসবে: ‘বালেন’। ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, বয়সের হিসেবে পুরোপুরি জেন জি নন। তিনি র‌্যাপার হিসেবেও পরিচিত। শহরের বর্জ্য সংকট সমাধান করে তিনি নিজেকে পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কালো সানগ্লাস, কালো স্যুট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একদল অনুসারী - যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে তার তীব্র মন্তব্যগুলো ছড়িয়ে দেন- এসব ছাড়া তাকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা গেছে। তিনি নিজেকে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি পূর্ব নেপালের সেই একই আসনে নির্বাচন করছেন, যেখানে জেন জি আন্দোলনে ১৯ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনের আগে নেপালিরা হিন্দু উৎসব হোলি উদ্যাপন করেন। রাজনীতি যেন উৎসবের রঙে না মেশে - এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডুর জনতা একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে এক নামেরই স্লোগান দিচ্ছেন? ‘বালেন’।

আর কে কে প্রতিদ্বন্দ্বি

যদিও বালেন্দ্র শাহ মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন, এবার তিনি নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। এই তরুণ রাজনৈতিক শক্তিটি নিজেদের পরিচ্ছন্ন ও প্রযুক্তি-নির্ভর দল হিসেবে প্রচার করছে। দলটি নয়জন জেন জি প্রার্থী দিয়েছে, যাদের কয়েকজন আগে শাহের সহযোগী ছিলেন।

এটি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করেছে - দুটি কমিউনিস্ট দল এবং মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস। এসব দলে জেন জি প্রার্থী খুব কম, যদিও তাদের শক্তিশালী সংগঠন ও দীর্ঘদিনের সমর্থক রয়েছে। এ পর্যন্ত দলগুলোতে সত্তরোর্ধ্ব নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন যাদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

সম্প্রতি ৪৯ বছর বয়সী গগন কুমার থাপা নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসায় দলটিতে কিছুটা পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। তিনি এসেই তার চেয়ে তিন দশক বড় দলীয় সভাপতিকে সরিয়ে দেন। থাপা বলেন, ‘জেন জি আন্দোলনের কারণেই আমাদের দল বুঝতে পেরেছে, সময় এসে গেছে।’

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি