image
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে

সংবাদ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার হামলা হয়েছে। এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কাতারের মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান। গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত নয়টি মার্কিন স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানলো। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির তিনটি দেশে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেও ইরান যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা বলছেন, অপ্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান ইসরায়েলের জন্য হুমকি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা নয়। তাছাড়া ইরানে হামলা চালালে পরিণতি কী হবে, সেটা না ভেবেই এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের শেষ কীভাবে হবে, সে বিষয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ধারণা নেই।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও বেশিরভাগ আমেরিকান ইরানে হামলার বিপক্ষে অবস্থান অবস্থান জানিয়েছেন।

সমালোচনায় ডেমোক্র্যাটরা

ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল। তাই ইরানে আগ বাড়িয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে গত রোববার ইরানে হামলা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের বিস্তারিত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ইরান আগে হামলা চালাতে পারে এমন কোনো তথ্য ছিল না।

পেন্টাগনের এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। যেমন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে দলটির সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ‘ইরানের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন কোনো হুমকি ছিল না, ছিল ইসরায়েলের প্রতি। এখন ইসরায়েলের প্রতি হুমকিকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে আমরা এমন পরিস্থিতিতে রয়েছি, যা আগে ঘটেনি।’

গত সোমবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের একটি কথা বলেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কথাটি হলো, ইরানের ওপর ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে এমন ধারণা থেকেই যৌথভাবে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ শুধু ইসরায়েল যদি এই হামলা চালাতো, তাহলে অভিযানে যোগ না দিয়েও পাল্টা হামলার শিকার হতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। এতে হতাহত বেশি হতো।

রুবিওর এই বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে টেক্সাস থেকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো বলেন, রুবিওর মন্তব্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে ইরানে হামলা চালিয়ে মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে ইসরায়েল। আর ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে না থামিয়ে বরং যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনই মিত্রদেশ হিসেবে ইসরায়েলও অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি