ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ক্ষয় হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই দেশটির আকাশসীমার ওপর যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
পিট হেগসেথ বলেন, আমরা চার সপ্তাহ বলতে পারি, তবে তা ছয় বা আট সপ্তাহও হতে পারে; এমনকি তিন সপ্তাহেই শেষ হতে পারে। যুদ্ধের গতি ও সময়সীমা শেষ পর্যন্ত আমরাই নির্ধারণ করবো। তিনি আরও জানান, গত শনিবার শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তুলনায় দ্বিগুণ আকাশশক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান: ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইতিমধ্যে ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব হয় নিহত হয়েছেন, না হয় আত্মগোপনে আছেন।
জেনারেল কেইন আরও দাবি করেন, ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে মার্কিন বাহিনী আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এখন ধীরে ধীরে দেশটির স্থলভাগের আরও গভীরে অভিযান বিস্তৃত করা হচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানো হবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান হেগসেথ। তিনি বিষয়টিকে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। অভিযানের সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি নিয়ে স্পষ্ট কোনো তারিখ না দিলেও তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী শেষ হয়ে গেছে এবং তারা সেটা খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবে।
মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, চলমান এই অভিযান ইসরায়েলের আগের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় সাত গুণ বেশি তীব্র। হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অভিযানের গতি কমাচ্ছে না, বরং তা ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে।
জাতীয়: এবার রোজার ঈদের ছুটি সাতদিন