image
ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধোঁয়াচ্ছন্ন তেহরানের মহাসড়ক

হামলা-পাল্টা হামলায় যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে

সংবাদ ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ৬ষ্ঠ দিনে বৃহস্পতিবার ও দুইপক্ষে ব্যাপক হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘তেহরানজুড়ে ইরান সরকারের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইডিএফ অতিরিক্ত আরও হামলা শুরু করেছে।’

একইভাবে ইরান বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি বোমা থেকে সুরক্ষা পেতে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে যুদ্ধে দুইপক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে কমপক্ষে ১,২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরানের হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন। কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তারা নিহত হন। লেবাননে গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। আর ইরানের হামলায় দুই কুয়েতি সেনাসহ চারজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, ওমান উপকূলে একজন এবং বাহরাইনে একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আইআরজিসির দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশকিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর জানিয়েছে, ইরান আবারও ইসরায়েল অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার (গতকাল) দফায় দফায় এই হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ দেয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, এসব ‘হুমকি প্রতিহত’ করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম সক্রিয় রয়েছে।

ইরান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায়। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগে কুয়েতে ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী পূর্ব তেহরানের একটি কম্পাউন্ডে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। সেখানে কমান্ড সেন্টার এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্মীদের অবস্থান ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার (গত) রাতে তাদের সাংবাদিকরা তেহরানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, তারা তিন দেশের ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত এসব মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ পর্যন্ত ইরানজুড়ে অন্তত ৩৩টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ এক পোস্টে জানান, বেশ কয়েকটি ইরানি শহরের হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং বাজারে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে তেহরানের নিলুফার চত্বরের আবাসিক এলাকা, তেহরান ও আহভাজের হাসপাতাল, তেহরান গ্র্যান্ড বাজার, রাজধানীর দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুলিস্তান প্যালেস কমপ্লেক্স এবং মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, তারা উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী সফলভাবে একটি আমেরিকান তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মানামায় থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদক এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দোহায় অবস্থানরত এএফপির একজন প্রতিবেদক এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানেও দফায় দফায় বিস্ফোরণে শব্দ শোনা যায়। উড়তে দেখা যায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ষষ্ঠ দিনের মতো তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে আইআরআইএস দিনা নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফল যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলার প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ‘এক্স’ পোস্টে আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। এই ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে।

আর ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক-বাণিজ্যিক জাহাজকে এই পথে চলাচল করতে দেয়া হবে না। এ ধরনের কোনো জাহাজ দেখা গেলে অবশ্যই তা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হবে।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি আরও বলেছে- তারা আগেই জানিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময়ে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে।

আরব উপসাগরে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ফুজাইরাহ উপকূলে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। এতে জাহাজ দুটির ফানেল ও স্টিলের পাত সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আরেকটি কনটেইনারবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ওমান উপকূল এবং দুবাইয়ের পশ্চিমে আরও দুটি জাহাজের খুব কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এখনই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে ওমানে আটকে পড়া সব বিদেশিদের নিজ নিজ দেশে ফিরতে সহায়তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে তার দেশের সরকার। ‘এক্সে’ দেয়া এক পোস্টে বদর আল-বুসাইদি লিখেছেন, ‘চলুন, এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ করি। ওমান সরকার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আটকে পড়া মানুষদের স্বদেশে ফেরাতে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে বলে জানান বদর আল-বুসাইদি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব দেশের নাগরিকেরই নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মানবিক অধিকার রয়েছে।

ইরানের কোম শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েলের বিমানবাহিনী এই হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থেকে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। ‘এক্সে’ দেয়া বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অবিচাই আদ্রাই বলেন, ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের ইসফাহান শহরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র লিখেছেন, এসব হামলার লক্ষ্য ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা। একই সঙ্গে অঞ্চলটির আকাশে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আক্রোশবশত কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ‘এক্সে’ দেয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি এই মন্তব্য করেন। তিনি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের তথাকথিত আলোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন। বলেন, তথ্যের বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে।

সৌদি আরব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘আল-খারজ শহরের বাইরে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার তুর্কি সমকক্ষ মন্ত্রী হাকান ফিদানকে ফোনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘এক্সে’ এক পোস্টে জানায়, ফোনালাপে আরাগচি বলেছেন, ‘শত্রুদের অশুভ তৎপরতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী থামবে না। তিনি দাবি করেন, যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছে, কেবল সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করে।

তুরস্কের আকাশসীমার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার ঘটনায় আঙ্কারায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই ঘটনার পরপরই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ ফোনালাপ হলো।

এর আগে তুরস্ক জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ওপর ন্যাটো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগর উপকূলের দরতিয়ল এলাকায় পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে এত বিপুলসংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌবাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি অঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রীও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের চলমান হামলার বিষয়ে আবারও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। গত বুধবার এক বিবৃতিতে ঘেইত বলেন, এসব হামলা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম’ লঙ্ঘনই নয় বরং এটি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ’ আচরণের নীতির ওপর এক বড় আঘাত। ঘেইত আরও জানান, ইরানের এই আগ্রাসন আরব দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির এক ‘নজিরবিহীন’ শত্রুতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ‘গভীর প্রভাব’ ফেলবে।

মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরান অভিযানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। আকাশপথে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা চেয়ে আনা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রস্তাব আটকে দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন তারা। সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২ জন এবং পক্ষে ৪৭ জন ভোট দিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ সীমিত করার এই ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটি আর এগোতে পারছে না। প্রস্তাবটি পাস হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে চলমান যুদ্ধ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হতো। তবে এর আগেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তাও ব্যর্থ হয়েছিল।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প কংগ্রেসকে এড়িয়ে গেছেন এবং যুদ্ধের সপক্ষে একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ রিপাবলিকান এ প্রস্তাব আটকে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে তারা অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। গত বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি চলমান অভিযানের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। জেনারেল কেইন বলেন, ‘আমরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছি, যাতে তারা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী, মার্কিন স্বার্থ এবং আমাদের সহযোগীদের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে।’

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি