মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে যখন নতুন করে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই এক স্বস্তিদায়ক বার্তা দিলেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববাজারে তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই এবং বর্তমানে সংকটের যে কথা শোনা যাচ্ছে তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত।
বিরোল মনে করেন, চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কিছু দেশে "লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন" বা সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল মজুদ রয়েছে। ফলে এখনই জরুরি মজুদ বাজারে ছাড়ার মতো কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না সংস্থাটি।
তবে আইইএ প্রধানের এই আশাবাদের বিপরীতে বাস্তব চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েক দিনেই প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে গত বুধবার (৩ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জেনারেল সরদার জব্বারি এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও হুমকি দিয়েছেন, ইরানের পাইপলাইনে হামলা চললে তারা অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবেন না, যার ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এই হুমকির পরপরই হরমুজ প্রণালি যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয় সেটি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা তীব্র হচ্ছে। যদিও সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবুও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক তেল সংকটের পর জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গঠিত আইইএ বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও ফাতিহ বিরোল বলছেন সংকটটি কেবল সাময়িক এবং লজিস্টিক্যাল, তবে ইরানের পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এক বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
অর্থ-বাণিজ্য: ট্রাম্পের আদেশে নেয়া পাল্টা শুল্ক ফেরত দিতে হবে