মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা আরও ছয় মাস পর্যন্ত তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘যুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যে জিতে গেছি।’
রোববার (৮ মার্চ) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ড্রোন হামলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার ফলে স্থাপনাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযোগের পর ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কুয়েতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানী কুয়েত সিটির একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি সুউচ্চ টাওয়ারে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ভবনটিতে কুয়েতের পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির সদর দপ্তর রয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের ভেতরে অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলা। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তেহরান ও আশপাশের এলাকায় অন্তত পাঁচটি তেল–সংক্রান্ত স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা হয়েছে। ইরানি তেলজাত পণ্য বিতরণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কেরামত ভেইস্কারামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তেহরান ও আলবোরজে চারটি তেল ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এতে চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন তেল ট্যাংকারচালক।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকের দিকে হামলার চেষ্টা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। আইআরজিসির দাবি, প্রয়োজন হলে আরও ছয় মাস পর্যন্ত তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছে। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি এখন বিমানবাহী রণতরী পাঠাতে চায়, তবে তার আর প্রয়োজন নেই।
সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর আঞ্চলিক প্রভাবও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক: আরও বড় যুদ্ধেও ইরানে সরকার পতন ঘটবে না
অপরাধ ও দুর্নীতি: ৪ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতির জামিন হলেও এখনই পাচ্ছেন না মুক্তি