image

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া ৩টি বার্তা দিল চীন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান আর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। শুধু ইরানের সঙ্গেই নয়, আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গেও আলোচনায় বসে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

চীনা গণমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় চীন তিনটি স্তরে বার্তা পাঠাচ্ছে: যুদ্ধ বন্ধ, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা আর শক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কাতার, ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াং ই স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। এটি কারো জন্যেই মঙ্গল বয়ে আনে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শক্তি ব্যবহার করে কোনো সমাধান আসে না। বরং তা কেবল ঘৃণা বাড়ায়। নতুন সংকট তৈরি করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা করেন। বলেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন আলোচনা যখন অগ্রগতির পথে ছিল, তখন হঠাৎ করে সামরিক অভিযান শুরু হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক শক্তির প্রকৃত মূল্য যুদ্ধক্ষেত্রে নয় বরং যুদ্ধ প্রতিরোধে।

চীনের বার্তার দ্বিতীয় স্তরটি ছিল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। ইরানে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেখা যায়, চীন স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, এই হামলার কোনো জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় ওয়াং ই বলেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা জোরপূর্বক পরিবর্তনের চেষ্টা কখনোই জনগণের সমর্থন পায় না। তিনি ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানানোর দাবি জানান। এই বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

চীনের তৃতীয় ও সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তাটি ছিল পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, বড় শক্তিগুলো নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভরসা করে ইচ্ছামতো অন্য দেশে হামলা চালাতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে যেন আবার জঙ্গলের আইনে ফিরে যেতে না দেওয়া হয়।

এই মন্তব্যের মাধ্যমে চীন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে পরোক্ষভাবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। চীনের সরকারি গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসও সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে।

চীনের জন্য এই সংকট শুধু নীতির প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও বিষয়। চীনের জ্বালানি তেল আমদানির একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। যা হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবাহিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেখা যায়, সাংবাদিকরা যখন চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্টভাবে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। তিনি সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন এই সংকটে সরাসরি সামরিকভাবে জড়াতে চায় না, তবে তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে । বেইজিং মনে করিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষই এই অঞ্চলের প্রকৃত কর্ণধার। এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের হাতেই থাকা উচিত।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি