image

ভয়ঙ্কর পানিসংকটের মুখে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে এক ভয়াবহ মানবিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে- পানির নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সংঘাতে তেল–গ্যাস অবকাঠামোর পাশাপাশি এবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সমুদ্রের লোনাপানি শোধন করে সুপেয় পানি তৈরি করা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে মরুময় উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য পানিসংকট তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথমবার কোনো ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট হামলার শিকার হলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগের দিন ইরান অভিযোগ করে, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পানি শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই ধরনের প্ল্যান্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরুভূমি ও অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক মিঠা পানির উৎস খুবই সীমিত। ফলে সমুদ্রের লোনাপানি শোধন করে পানযোগ্য পানি তৈরির ওপরই ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কুয়েত পর্যন্ত উপকূলে ৪০০টির বেশি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে, যা প্রতিদিন কোটি মানুষের পানির জোগান দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের মোট পানি শোধন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর হাতে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কুয়েতে সুপেয় পানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে। ওমানে এই হার ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪২ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনায় হামলা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ পানির ঘাটতি হলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং শিল্প ও নগরজীবনও ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা আঞ্চলিক সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যৌথ পানি মজুত ব্যবস্থা, আঞ্চলিক পানি গ্রিড এবং বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে জ্বালানির পাশাপাশি পানিও হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যৎ সংকটের কেন্দ্রবিন্দু- যার প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি