image

যুদ্ধের কর্তৃত্ব কার হাতে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাদানুবাদ

সংবাদ ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসলাইল যুদ্ধের কর্তৃত্ব কার হাতে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে। এই বক্তব্যের আগে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ইরানের, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি

হরমুজ প্রণালি দখলের ‘চিন্তা-ভাবনা’ ট্রাম্পের

হামলায় কেঁপে উঠছে ইরানের বিভিন্ন শহর

ট্রাম্প-পুতিন প্রথম ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে উঠা বাজারকে আশ্বস্ত করতেই তিনি এ কথা বলেন। যদিও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান নির্দেশনা না মানলে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হতে পারে। ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটি (যুদ্ধ) শেষ হয়ে যাবে। আবার যদি শুরু হয়, তাহলে তারা আরও কঠোরভাবে আঘাত পাবে।’ এর আগে আইনপ্রণেতাদের তিনি অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি হবে ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান।’

ইরান ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিরোধিতা করে জবাব দিয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পাল্টা জানায়, যুদ্ধের শেষ কখন হবে তা আমেরিকা নয়, তারাই (ইরান) নির্ধারণ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাল্টা এই অবস্থান জানালো তেহরান।

বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে, আমরাই এই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবো। এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে না।

তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ইরানের, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে।

চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলা চালানো হবে। এছাড়া আমরা এমন কিছু সহজে ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবো, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে। তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমনটা না ঘটে!’

হরমুজ প্রণালি দখলের ‘চিন্তা-ভাবনা’ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তার প্রশাসন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি নিজেদের দখলে নেয়ার ‘চিন্তা-ভাবনা’ করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। তবে ১০ দিন আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সিবিএস নিউজকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, তবে হোয়াইট হাউজ এটি ‘দখলে নেয়ার কথা ভাবছে’ এবং সেখানে তারা ‘অনেক কিছুই’ করতে পারে। ইরান এখন পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়নি। তবে দেশটি হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো তেলের ট্যাঙ্কার এই পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে তারা হামলা চালাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাডার সিস্টেম ধ্বংসের দাবি ইরানেরইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি উন্নত রাডার সিস্টেম এবং বেশকিছু দামি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি।

একই সঙ্গে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমিয়ে দিয়েছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছে বাহিনীটি। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, যার একেকটি ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা

ইরান যুদ্ধের ১১তম দিন ছিল মঙ্গলবার। মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান মঙ্গলবার ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায়।

একই সঙ্গে ইসরায়েলও নতুন করে হামলার ঘোষণা দেয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে বলে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিএনএন জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা গেছে। বিমান হামলা হলে এমন আওয়াজ হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণের উপশহরগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। পৃথক ভিডিওতে দেখা গেছে, বৈরুতের একটি হোটেলে আগুন জ্বলছে। হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বৈরুতে রাতে হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে।

বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে মঙ্গলবার হামলা হয়েছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চারটি ড্রোন দেশটির একটি বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন মরু এলাকায় ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

হামলায় কেঁপে উঠছে ইরানের বিভিন্ন শহর

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মঙ্গলবার ও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা চলছে। হামলায় কেঁপে উঠছে দেশটির বিভিন্ন শহর। তেহরানে অবস্থানরত আল-জাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদি জানান, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় আমরা রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনার কথা শুনেছি এবং ইসফাহান, তাবরিজ ও আহভাজসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পেয়েছি।’ এসব হামলায় হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

এদিকে ইরান সরকারের বিভিন্ন বার্তায় বলা হচ্ছে, পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং এই পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভবানা নেই।

বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের প্রতি ইরানের হামলা

বাহরাইনের একটি হোটেলে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই হোটেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। গত ১১ দিন ধরে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার চলার মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ব্যর্থতা: ইরান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধকে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রথম পরিকল্পনা (প্ল্যান এ) ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা অন্য পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেগুলোও একইভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা শেষ নেই। আর এ কারণেই তারা আবাসিক এলাকাগুলোতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

আরাগচি বলেন, ‘আমি দেখছি না যে তারা কোনো যৌক্তিক লক্ষ্য অনুসরণ করছে। শুরুতে তারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন ১০ দিন পার হওয়ার পর আমার মনে হয়, তারা পুরোপুরি লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।’

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে প্রাণহানি কত?

ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮ মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অলাভজনক মানবিক সংস্থা ‘ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র তথ্যানুযায়ী, ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ১৭৫ জন ছাত্রী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কর্মী রয়েছেন। এছাড়া সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও কয়েকশ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময়ে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেয়া এক তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের ৫০টির বেশি নৌযান রয়েছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ড জানায়, তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ট্রাম্প-পুতিন প্রথম ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর এ প্রথম রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এ ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ দ্রুত অবসানে পুতিন তার নিজের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।

এ বছর রুশ ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে হওয়া এক ঘণ্টা দীর্ঘ এই প্রথম ফোনালাপ প্রসঙ্গে উশাকভ বলেন, ‘আমি শুরুতেই বলবো যে আলোচনাটি ছিল পেশাদার, খোলামেলা ও গঠনমূলক; যা সাধারণত রুশ ও মার্কিন নেতাদের সংলাপে দেখা যায়।’ উশাকভ আরও বলেন, ‘ইরান সংঘাতের দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট বেশকিছু বিবেচ্য বিষয় তুলে ধরেছেন।’

পারস্য উপসাগরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশ ইরানের হামলার মুখে পড়ায় সেখানে সামরিক নজরদারি বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অনুরোধে সেখানে ‘ই-৭এ ওয়েজটেইল’ বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমিরাতকে উন্নতমানের মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করবে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ মোতায়েন কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশে নয় বরং রক্ষণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হচ্ছে।

বিমান হামলায় রাতে কেঁপেছে ইরান

বিমান হামলার তীব্রতার দিক থেকে তেহরানে গত সোমবার রাতটি এখন পর্যন্ত অন্যতম ভয়াবহ রাত বলে অভিহিত করেছেন আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল। তিনি তেহরান থেকে জানিয়েছেন, সেখানে গত কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে যার সংখ্যা গণনা করাও কঠিন। বিশাল সব বিস্ফোরণে সেখানে আল-জাজিরার অফিসের জানালা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।

যতদিন প্রয়োজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলবে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ‘দ্রুত’ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। যতদিন প্রয়োজন এবং যতক্ষণ সময় লাগবে, ততদিন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সুসজ্জিত ও প্রস্তুত।

হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে, ইরানে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনের হাত থেকে মুক্ত করা। মঙ্গলবার ইসরায়েলের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য খাতের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণকে স্বৈরাচারের জোয়াল থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত এটি তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার প্রভাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, এখন পর্যন্ত নেয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা তাদের হাড় গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি