ইরানে হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বহু দেশ প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিতে পারছে না। যে পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনেকে দেশে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সরকারের এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, বাসা থেকে অফিসের কাজ করাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে সফরও অনেক ক্ষেত্রে স্থগিত করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। যেখানে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকলেও তা সাশ্রয়ে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলবলার কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একাধিক সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এক মুখপাত্র জানান, জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলোতে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যায়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বাসা থেকে অফিসের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের মতে, এতে অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে। যাতায়াতজনিত জ্বালানি খরচও হ্রাস পাবে।
থাইল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী আত্তাপোল রের্কপিবুন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে বৈশ্বিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। চাহিদা কমানোর পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। সেই আশঙ্কায় এখন থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবস্থার পথে হাঁটছে অনেক দেশ। থাইল্যান্ডের লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার বা হোম অফিসের মতো নির্দেশনা সেই সতর্কতারই এক প্রতীকী উদাহরণ।