image

কিশোরীদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নে বিটগেট ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগ

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক

ডিজিটাল অর্থনীতিতে কিশোরীদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে বিটগেট এবং ইউনিসেফ এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিশোরীদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচিতে ভিডিও গেম ডেভেলপমেন্টকে দক্ষতা উন্নয়নের একটি বাস্তবমুখী মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ অফিস অফ ইনোভেশনের ‘গেম চেঞ্জার্স কোয়ালিশন’ উদ্যোগের আওতায় কম্বোডিয়ার তরুণ প্রজন্ম কোডিং, স্টোরিটেলিং, ডিজাইন এবং আর্থিক সাক্ষরতাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতে টিকে থাকা এবং সফল হওয়ার জন্য এসব দক্ষতাকে প্রতিষ্ঠান দুটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে।

প্রযুক্তিখাতে ডিজিটাল প্রতিভার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু নারী ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, যেমন ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সীমিত সুযোগ, পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ঘাটতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া। এই বৈষম্য দূর করতে ইউনিসেফ এবং তাদের অংশীদাররা দীর্ঘমেয়াদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই তরুণ-কেন্দ্রিক ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামটি পরিচালিত হচ্ছে বিটগেট, গ্লোবাল ভিডিও গেমস কোয়ালিশন এবং মাইক্রন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। প্রধান লক্ষ্য হলো কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি, প্রযুক্তি ও উদীয়মান ডিজিটাল ক্ষেত্রগুলোতে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বিটগেটের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ।

সম্প্রতি বিটগেটের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইগনাসিও আগুইরে কম্বোডিয়া সফর করেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি তিনি ইউনিসেফের প্রথম গ্লোবাল ‘গেম জ্যাম’-এ বিজয়ী একটি কম্বোডিয়ান দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই ভার্চুয়াল হ্যাকাথনে অংশ নেওয়া ৮টি দেশের মধ্যে কম্বোডিয়া অসাধারণ সাফল্য দেখায়, এবং ৭টি বৈশ্বিক পুরস্কারের মধ্যে ৪টিতে জয়লাভ করে। ইগনাসিও আগুইরে বলেন, কম্বোডিয়ার তরুণদের মেধা ও সংকল্প তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন—কোডিং, ডিজাইন থেকে শুরু করে ব্লকচেইনের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে।

এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সংস্কৃতি ও সমাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভিডিও গেম তৈরি করছে এবং তাদের সৃজনশীল প্রক্রিয়া তুলে ধরছে। টেকও প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী রচনা, বিজয়ী দল ‘গ্রিন এভার’-এর সদস্য, জানায় কোডিংয়ের পাশাপাশি আমরা ছবি আঁকা, গল্প তৈরি এবং ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করতে শিখেছি। আগে ভাবতাম গেম শুধু বিনোদনের জন্য, এখন বুঝি বাস্তব সমস্যার সমাধানেও গেম কার্যকর হতে পারে। আমি এমন কিছু তৈরি করতে চাই যা আমার সমাজের মানুষের জীবনকে সহজ করবে। নম পেনে ইউনিসেফ এবং কম্বোডিয়ার শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল গেম জ্যাম’–এ ১১টি প্রদেশের ১৪টি স্কুল থেকে ৬০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার ৬৫ শতাংশ ছিল মেয়ে। ছয় সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞ বিচারকম-লীর সামনে তাদের তৈরি মৌলিক ভিডিও গেম প্রদর্শন করে।

কম্বোডিয়ায় ইউনিসেফ প্রতিনিধি ড. উইল পার্কস বলেন, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মেয়ে এখনও ডিজিটাল দক্ষতা ও নেটওয়ার্কের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তবে কম্বোডিয়ায় ভিডিও গেম ডেভেলপমেন্টের মতো উদ্ভাবনী পদ্ধতি লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছে, এমনকি দুর্গম অঞ্চলের কিশোরীরাও অনুভব করছে যে ডিজিটাল বিশ্বে তাদের সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব এইচই ড. কিম সেথানি উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, এই প্রকল্প কম্বোডিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরের কেন্দ্রে মেয়েদের নিয়ে এসেছে। কোডিং, সমস্যা সমাধান এবং দলীয় কাজের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা তাদের ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্লোবাল গেম চেঞ্জার্স কোয়ালিশন ২০২৭ সালের মধ্যে ১২টি দেশের ১১ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় ইউনিসেফ মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করছে।

‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ : আরও খবর

সম্প্রতি