১৩ বছর বয়সের আগে শিশুকে ফোন দেওয়া বিপজ্জনক এবং এর ফলে তাদের মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত, স্থুলতা বা অতিরিক্ত ওজন ও বিষন্নতাও দেখা দিতে পারে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষণায় শৈশব ও কৈশোরের মধ্যবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুদের ওপর ফোন বা গ্যাজেটের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা। এ মাসের শুরুতে গবেণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স’-এ।
গত মাসের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম সহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন র্যান বারজিলে। ‘ফিলাডেলফিয়া চিলড্রেন’স হাসপাতালের একজন শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক তিনি। এ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অঞ্চলের সাড়ে দশ হাজারেও বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এই গবেষক।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৩ বছর বয়সের তুলনায় যেসব শিশু ১২ বছর বয়সে হাতে ফোন পেয়েছে তাদের ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি ৬০ শতাংশের বেশি এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি ৪০ শতাংশের বেশি।
গবেষণাপত্রটিতে গবেষকরা লিখেছেন, যে তিন হাজার চারশ ৮৬ জন টিনএজার ১২ বছর বয়সে স্মার্টফোন পায়নি, ১৩ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, যারা এই এক বছরের মধ্যে স্মার্টফোন হাতে পেয়েছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন বিষন্নতা বা উদ্বেগ ও অপর্যাপ্ত ঘুমের ঝুঁকি যারা এই সময়ে ফোন ব্যবহার শুরু করেনি তাদের তুলনায় অনেক বেশি।