চীনে অ্যাপলের পণ্য তৈরির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গত মাসের শুরুর দিকে বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হামলার ফলে অ্যাপলের সংবেদনশীল তথ্য ও গোপন ডাটা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাধারণত পণ্যের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য অনেক থার্ড-পার্টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করে অ্যাপল। তেমনই একটি প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটায় অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
ডিজিটাইমসের এক প্রতিবেদনে আশঙ্খা প্রকাশ করা হয়, এ হামলার মাধ্যমে অ্যাপলের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং ডাটা হ্যাকারদের নাগালে চলে যেতে পারে। এ সাইবার হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা এর প্রভাব ঠিক কতটা গভীর, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর মধ্যে নতুন আইফোনের বিশেষ কারিগরি নকশা থেকে শুরু করে সেটি তৈরির গোপন পদ্ধতিও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যপিল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাইবার হামলার ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকিটি বর্তমানে সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো গোপন তথ্য চুরি হয়েছে কিনা কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘœ ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ডিজিটাইমসের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কারখানা বা কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে চীনে অ্যাপলের পণ্য উৎপাদনের জন্য ফক্সকন, পেগাট্রন ও উইস্ট্রনের মতো অনেক বড় ও স্বনামধন্য অংশীদার কাজ করে। অ্যাপলের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে একটি শক্তিশালী ভাইরাস আক্রমণের কারণে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ অ্যাপল ডিভাইসের চিপ তৈরিতে বড় ধরনের বিঘœ ঘটে। এছাড়া ২০১২ সালে একদল হ্যাকার অ্যাপলের প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফক্সকনের সিস্টেমে ঢুকে বিভিন্ন বিক্রেতার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড ফাঁস করে। এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে অপরাধীরা বড় ধরনের জালিয়াতির সুযোগ পেয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাপ্লাই চেইনের কোনো একটি কারখানায় হামলা হলে তার প্রভাব পুরো অ্যাপল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার সময় পিছিয়ে যেতে পারে অথবা বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।