image

এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধ, প্রতারণা এবং জালিয়াতি থেকে মুক্তির পথ তৈরি হলো : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক

এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের সিম এবং অনিবন্ধিত ডিভাইস কেন্দ্রিক অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতি থেকে মুক্তির পথ তৈরি হলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। গত ৪ জানুয়ারি অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এ হামলাটা সেদিনই ঘটলো যেদিন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একক খাত হিসেবে বৈধ মোবাইল আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক কমানো হয়েছে। অথচ প্রায় ষাট শতাংশ আমদানি শুল্ক কমানোকে স্বাগত না জানিয়ে রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, পহেলা জানুয়ারি ২০২৬ এর আগে যে সকল ফোন বাংলাদেশে এসেছে সেগুলো সচল হোক বা অবিক্রিত থাকুক সবগুলো ফোনই আমরা বৈধ করে নিব। সাতটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের অবিক্রিত ফোনের আইএমইআই এর তালিকা প্রদান করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান দেয়নি তাদেরকে হয়তো ভুল বোঝানো হচ্ছে অথবা তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে সরে এসে সবাই এনইআইআর বাস্তবায়নে শরিক হবে বলে আমরা আশা করছি।

এনইআইআর সিস্টেম চালুর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অফ বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিদের সাথে বিটিআরসির কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভাসমূহে ব্যবসায়িক কমিউনিটির পক্ষ থেকে শুল্ক কমানো সহ যেসব দাবি-দাওয়া উত্থাপিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিটিআরসি ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে।

বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রথম দাবি মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানির শুল্কহার হ্রাস করতে হবে। ইতোমধ্যে মোবাইল হ্যান্ডসেটের শুল্ক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে। পূর্বে আমদানির ক্ষেত্রে প্রায় ৬১% শুল্ক ছিল, বর্তমানে তা কমিয়ে প্রায় ৪৩% করা হয়েছে। তাদের দ্বিতীয় দাবি ছিলো মোবাইল ফোন আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানির জন্য বর্তমানে যে প্রক্রিয়া রয়েছে এবং কাগজপত্র দাখিল করতে হয় তা শিথিল করা হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেন্ডর এনলিষ্টমেন্ট সনদ প্রদান করা হবে। মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য মোবাইল ফোনের অরিজিনাল উৎপাদনকারীর সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে যেকোনো অথরাইজড ডিলারের ডকুমেন্টস দাখিল সাপেক্ষে হ্যান্ডসেট আমদানি করা যাবে। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা অর্থাৎ হ্যান্ডসেটের বিক্রয় পরবর্তী সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে নূন্যতম এই সার্টিফিকেট দাখিল করা প্রয়োজন। তৃতীয় দাবি ছিলো বর্তমানে অবিক্রিত/স্থিত হ্যান্ডসেটসমূহকে নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ রাখতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, নামমাত্র শুল্ক প্রদান করে কোন কাগজ ব্যতিরেকে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হবে। এমনকি যে সকল হ্যান্ডসেটের আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে সেগুলোও নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ করা হবে। চতুর্থ দাবি ছিলো পুরনো মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি করতে দিতে হবে। পুরনো হ্যান্ডসেট আমদানি অনুমোদনের বিষয়টি বিটিআরসির আওতাভুক্ত নয়। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পুরনো পণ্য আমদানির তালিকাতে মোবাইল হ্যান্ডসেটের নাম উল্লেখ নেই। পুরনো হ্যান্ডসেটসমূহ কি পর্যায়ে রয়েছে বা কোন কোয়ালিটিতে আমদানি হচ্ছে তা যাচাই করা সম্ভব হয়না। তাই পুরনো যেকোনো হ্যান্ডসেট ক্রয়ে গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার আশংকা থাকে।

এনইআইআর চালুর পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বিষয় বিটিআরসির নজরে এসেছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির বক্তব্য নিম্নরূপঃ

১। একজন গ্রাহক তাদের অনুকূলে অনেক অবৈধ আইএমইআই নাম্বার দেখতে পাচ্ছেন। বিষয়টি ক্লোন/কপি/ব্যবহৃত/রিফারবিসড মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ফলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই ধরনের আইএমইআই যেন ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে না পারে তা এনইআইআর সিস্টেম চালুকরণের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

২। একই এনআইডি’তে অধিক সংখ্যক সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা পরিলক্ষিত হওয়া। এনইআইআর সিস্টেমে একজন গ্রাহকের এ যাবত কালের সকল হিস্টরিক ডেটা সংরক্ষিত আছে, তাই এ ধরনের সংখ্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই নিয়ে কাজ করছে যেন একজন গ্রাহক শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখতে পারেন। আশা করা যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে এ ধরনের সমস্যা সমূহ কমে আসবে।

৩। এনইআইআর চালুর পর সিটিজেন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল অপারেটর থেকে ওটিপি আাসতে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। স্বল্প সময়ে অনেক রেজিস্ট্রেশন রিকোয়েস্ট আসার ফলে কিছু গ্রাহক এই বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিটিআরসি থেকে সংশ্লিষ্ট সকল মোবাইল অপারেটরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

৪। অনেক গ্রাহক তাদের তথ্যের নিরাপত্তা অর্থাৎ তথ্য চুরির বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন। এক্ষেত্রে, বিটিআরসির পক্ষ থেকে আশ^স্ত করা হচ্ছে, সকল গ্রাহকের সকল তথ্য নিরাপদ রয়েছে। একজন গ্রাহক কেবল তার নিজস্ব তথ্য দেখতে পারবেন, অন্য কেউ দেখতে পারবেন না।

এছাড়া, গ্রাহকের যেকোন সমস্যা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার অথবা বিটিআরসির হটলাইন নাম্বার ‘১০০’ তে জানানোর অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধান করা হবে।

পরিদর্শনকালে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ এমদাদ উল বারী সহ বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ : আরও খবর

সম্প্রতি