প্রযুক্তি বিশ্বে মাঝে মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যাকে বলা হয় ‘সন্ধিক্ষণ’। এটি এমন এক সময়, যখন নতুন কোনো পণ্য এসে পুরোনো প্রযুক্তিকে মুহূর্তেই ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দেয়। আইফোন আসার পর ব্ল্যাকবেরির যেমন দশা হয়েছিল, গাড়ি শিল্পে এখন ঠিক তেমনই এক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ভলভোর নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘ইএক্স৬০’ (EX60)। প্রযুক্তি বিশ্লেষক রব এনডার্লের মতে, এই গাড়িটি সম্ভবত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির প্রয়োজনীয়তা চিরতরে শেষ করে দিতে চলেছে।
কিন্তু কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? এর মূল কারণ ভলভোর নতুন ‘বর্ন-ইলেকট্রিক’ আর্কিটেকচার। ইএক্স৬০ গাড়িতে রয়েছে ১১২ কিলোওয়াট-আওয়ারের (kWh) বিশাল ব্যাটারি, যা একবার চার্জ দিলে প্রায় ৫০৩ মাইল (ডব্লিউএলটিপি রেটিং অনুযায়ী) পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের বেন্ড থেকে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত যাত্রাপথে গাড়ির চার্জের জন্য থামার প্রয়োজন হবে না। বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে চালকদের মনে এতদিন যে ‘রেঞ্জ অ্যাংজাইটি’ বা মাঝপথে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক কাজ করত, ভলভো তা কার্যত দূর করে দিয়েছে।
শুধু মাইলেজ নয়, চার্জিং গতিতেও বিপ্লব এনেছে এই গাড়ি। এর ৮০০ ভোল্ট আর্কিটেকচার এবং ৪০০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধার কারণে মাত্র ১০ মিনিট চার্জ দিলেই গাড়িটি প্রায় ১৭৩ মাইল চলার শক্তি পায়। হাইব্রিড গাড়ির প্রধান সুবিধা ছিল দীর্ঘ যাত্রায় চার্জিংয়ের জন্য অপেক্ষা না করা। কিন্তু যদি মাত্র ১০ মিনিটেই প্রয়োজনীয় চার্জ নেওয়া যায়, তবে হাইব্রিড ইঞ্জিনের জটিল এবং ভারী প্রযুক্তির আর প্রয়োজন কী?
গাড়িটির নির্মাণশৈলীতেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। ‘মেগা কাস্টিং’ প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়ির বডি বা কাঠামো একাধিক জোড়াতালির পরিবর্তে এক খণ্ড অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। এতে গাড়িটি যেমন হালকা ও মজবুত হয়েছে, তেমনি এর ভেতরটা হয়েছে অবিশ্বাস্য রকম নিরব। গাড়ির ভেতরে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে এবং এনভিডিয়া ও গুগল জেমিনির সমন্বয়ে তৈরি ‘হুগিনকোর’ (HuginCore) কম্পিউটিং সিস্টেম একে একটি স্মার্ট সঙ্গীতে পরিণত করেছে। চালক যদি বলেন তিনি ক্লান্ত, গাড়িটি তখন নিজেই লাইটিং অ্যাডজাস্ট করে বা কফি শপের সন্ধান দেয়।
বিএমডব্লিউ বা অডির মতো জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন ৪০০ মাইলের রেঞ্জ পার করতে হিমশিম খাচ্ছে, ভলভো তখন চীনা প্রযুক্তির ব্যাটারি পারফরম্যান্স এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা মানদণ্ডকে এক সুতোয় গেঁথেছে। রব এনডার্লের মতে, ইএক্স৬০ কেবল একটি নতুন গাড়ি নয়, এটি একটি ঘোষণা যে পেট্রোল ইঞ্জিনের যুগ শেষ হয়ে আসছে।
সূত্র : technewsworld
এমএন