image

সন্তানদের আসক্তি কমাতে অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়,বলছে মেটার গবেষণা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মেটার (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান) নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গবেষণাতেই উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। তাদের তৈরি প্যারেন্টাল সুপারভিশন বা অভিভাবক তদারকি টুলগুলো কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি ‘বাধ্যতামূলক আসক্তি’ কমাতে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। মঙ্গলবার প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, মেটা প্রজেক্ট মিস্ট নামে একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা পরিচালনা করেছিল। এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অভিভাবকরা যখন সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নজরদারি করেন বা সময় বেঁধে দেন, তখনও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আসক্তিমূলক আচরণ বা বারবার অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না। যদিও এই টুলগুলো অভিভাবকদের কিছুটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়, কিন্তু তা সন্তানদের ‘বাধ্যতামূলক ব্যবহার’ বা আসক্তি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ঝুঁকিতে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্তরা

গবেষণায় আরও একটি স্পর্শকাতর বিষয় উঠে এসেছে। যেসব কিশোর-কিশোরী অতীতে কোনো মানসিক আঘাত বা ট্রমার শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি সাধারণদের তুলনায় অনেক বেশি। মেটার নিজস্ব তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই নাজুক পরিস্থিতির কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় বর্তমান টুলগুলো যথেষ্ট নয়।

প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার অমিল

মেটা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে তাদের ‘ফ্যামিলি সেন্টার’ ও অন্যান্য তদারকি ফিচারগুলো সন্তানদের সুরক্ষায় এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। কিন্তু তাদের নিজেদের গবেষণাই এই দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। চলমান আইনি লড়াইয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এই টুলগুলোকে কেবল ‘লোকদেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, মেটা জানত যে এই ফিচারগুলো মূল সমস্যার সমাধান করবে না, কারণ প্ল্যাটফর্মগুলোই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ : আরও খবর

সম্প্রতি